ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন খুরশীদ আলম, যিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর। রোববার (২৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতিমালা বিভাগ-২ (বিআরপিডি-২) থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। এই চিঠি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৪৫ ও ৪৭(৩) অনুযায়ী এই নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক এবং চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলো। একই দিনে बैंकটির বিদায়ী চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদ থেকে অব্যাহতি পত্র জমা দেন। ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ের ব্যাংকের পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে বনিবনা না হওয়া নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। তারই মধ্যে চেয়ারম্যান দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করেন এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকেও ছুটি দেওয়া হয়। ১২ এপ্রিল পরিচালনা পর্ষদে এ ছুটি অনুমোদন করা হয়। রোববার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক শীর্ষ সভা আহ্বান করা হয়, যেখানে কিছু গ্রাহক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে এমডি ও চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবি জানায়। এরই মধ্যে চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তার পদত্যাগপত্র পাঠান। একই দিনে এমডি ওমর ফারুক খানও পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, তবে পর্ষদ সভা বাতিল হওয়ায় এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। ব্যাংকের অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ব্যাংকের মুনাফা ছিল প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়ায় ১৩৭ কোটি টাকায়। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার ৪.২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় প্রায় ৪৯ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংকের ৯২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। শেয়ারহোল্ডিং কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্ব ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ১৭.৯১ শতাংশে নেমে আসে। অন্যদিকে, এস আলম গ্রুপের মোট শেয়ার বাংলাদেশ ব্যাংক জব্দ করেছে; এর অংশীদারিত্ব এখন প্রায় ৮২ শতাংশ।
