এবারের হজ উপলক্ষে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ-লাখ মুসল্লি পৌঁছে হজের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। এসব পরিস্থিতিতে সৌদি ‘ন্যাশনাল সেন্টার অব মেটেরোলজি’ (এনসিএম) আবহাওয়ার বিশেষ পূর্বাভাস দিয়েছে — আরাফাতের দিন থেকে মক্কার পবিত্র স্থানগুলোতে তাপমাত্রা কিছু সময়ে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে এবং ধুলোঝড় ও বালুঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
খালিজ টাইমস জানিয়েছে, গরমের মৌসুমে হজ হওয়ায় হাজিদেরকে দীর্ঘ পথ হাঁটা এবং খোলা আকাশের নিচে ইবাদত করতে হবে—এ কারণে তীব্র তাপ সহ্য করতে হতে পারে। সৌদি কর্তৃপক্ষ তাই হজযাত্রীদের সতর্ক থাকার ও পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষত দিনের তীব্র রোদ এড়াতে ছায়াপানে থাকা, শীতল পানীয় নিয়মিত খাওয়া ও অতিরিক্ত শারীরিক শ্রম এড়িয়ে চলা জরুরি বলেছে তারা।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এ বছর বিদেশি হাজির সংখ্যা ইতিমধ্যে ১৫ লাখ ১৮ হাজার ১৫৩ জনে পৌঁছেছে। সৌদি আরবের হজ পাসপোর্ট বাহিনীর কমান্ডার সালেহ আল-মুরাব্বা এই তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার পরও এই সংখ্যাটি গত বছরের তুলনায় বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।
সৌদি আবহাওয়া বিভাগ হজের আবহাওয়াকে দুই ধাপে ভাগ করে বিস্তারিত পূর্বাভাস দিয়েছে। জিলহজের ১ থেকে ৮ তারিখ (১৮ মে থেকে ২৫ মে) মক্কা ও আশপাশে আবহাওয়া গরম থেকে অতি গরম থাকবে; দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৪ থেকে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে যেতে পারে, রাতের তাপমাত্রা ২৮ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই সময়ে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং সক্রিয় বায়ুপ্রবাহের কারণে ধুলো ও বালু উড়ার সম্ভাবনা আছে। বাতাসের আর্দ্রতা ১০–৪০ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।
জিলহজের ৯ থেকে ১৩ তারিখ (২৬ মে থেকে ৩০ মে), যার মধ্যে আরাফাত দিবসও রয়েছে, তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও সাধারণত গরম অব্যাহত থাকবে। ওই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ থেকে ৪৪ ডিগ্রির মধ্যে এবং সর্বনিম্ন ২৬ থেকে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। বাতাস আর্দ্রতা ১৫–৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করতে পারে এবং ঘণ্টায় ২০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।
এনসিএম আরও জানিয়েছে, তায়েফ অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় বজ্রসহ মেঘ সৃষ্টি হতে পারে, যার প্রভাব মক্কার পবিত্র স্থানগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে—এতে ধুলোঝড় ও বালুঝড়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সামনে কঠিন তাপ ও বালু-ধুলো ঝড়ের সম্ভাবনা মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষ হাজিদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন, পর্যাপ্ত পানি ও তরল গ্রহণ, প্রয়োজনে ছায়ায় বিশ্রাম নেয়া এবং স্থানীয় প্রশাসন বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।