আন্তর্জাতিক ফুটবলে অপ্রত্যাশ্য ফলাফল নতুন কিছু নয় — এবার সেই অপ্রত্যাশ্যতার ইঙ্গিত আগেভাগেই দিয়েছে একটি গাণিতিক মডেল।
জার্মান অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগ বিশ্লেষক ইওয়াখিম ক্লেমেন্ট তৈরি করা ওই অ্যালগরিদমের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হবে নেদারল্যান্ডস। সবচেয়ে বড় চমক হলো, প্রচলিত প্রাধান্যশীল দলগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন বা ফ্রান্সকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখানো হয়নি।
ক্লেমেন্ট জানান, তার মডেল কেবল মাঠের পারফরম্যান্সই নয়, অর্থনীতি, জনসংখ্যা, আবহাওয়া, আয়-স্তর এবং আয়োজক দেশের পরিবেশগত সুবিধাসহ বহুমাত্রিক তথ্য বিশ্লেষণ করে। এই তথ্যগুলো মিলিয়ে তিনি দাবি করেন মডেলটি প্রায় ৫৫ শতাংশ নির্ভুলতার কাছাকাছি ভবিষ্যদ্বাণী দিতে পারে। ক্লেমেন্ট ইতোমধ্যেই বলেছেন, তার মডেল ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ সম্পর্কেও পূর্বাভাস দিয়েছিল এবং সেই কারণেই নতুন ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে ফুটবল মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মডেলের রোডম্যাপে নেদারল্যান্ডসকে গ্রুপ পর্বে জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে দেখা গেছে এবং নকআউট পর্বের পূর্বাভাসগুলোও চমকপ্রদ। মডেল অনুযায়ী জাপান রাউন্ড অব ৩২-তেই ব্রাজিলকে বিদায় দেবে, যা অনেকের জন্য অপ্রত্যাশিত ঘটবে।
সবশেষে, ক্লেমেন্টের অ্যালগরিদম ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ হিসেবে পর্তুগালকে দেখায় এবং নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ডাচরা প্রথমবার বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে — এমনটি তার মডেলের চিত্র।
ঊনশতকের ইতিহাস চোখে রাখলেই বোঝা যায় নেদারল্যান্ডসের জন্য এটি বড় একটা ঘুরপাক: ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০ সালের ফাইনালে হারার পর থেকেই তারা শিরোপার কাছাকাছি গিয়েও ফিরে এসেছে। ক্লেমেন্টের গণিতগত হিসাব সেই পুরনো আক্ষেপ মোচনের সম্ভাব্য পথ দেখাচ্ছে, আর এই ভবিষ্যদ্বাণী ফুটবল বিশ্লেষক ও ভক্তদের মধ্যে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের সূচনা করেছে।