কাল পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশে উৎসবমূখর পরিবেশ থাকলেও আবহাওয়া কিছু এলাকায় আনন্দঘন চলার ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী ঈদের দিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে; কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণও হতে পারে।
আবহাওয়া বিভাগ বলেছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই ঈদের বাইরে আয়োজন কিংবা ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে আবহাওয়া বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
তাপমাত্রা সম্পর্কে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, সারাদিনের তাপমাত্রা সাধারণত অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা নামতে পারে, ফলে সন্ধ্যা-রাতে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু ঠাণ্ডা লাগতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়েছে; সীতাকুণ্ডে সর্বোচ্চ ১০৩ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। ফেনীতে ৭৮ মিমি, চট্টগ্রামে ৫৮ মিমি, ঢাকায় ৪২ মিমি, গোপালগঞ্জে ৩৮ মিমি এবং ফরিদপুরে ৩৭ মিমি বৃষ্টিপাত দেখা গেছে। অন্যদিকে খুলনা ও মোংলায় তাপমাত্রা অন্যান্য স্থানের তুলনায় কিছুটা বেশিই ছিল।
ঈদের পরও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুদিন ধরে থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষের আভাস অনুযায়ী ২৯ মে রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। ৩০ মে থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমতে পারে, তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি চলতে পারে। ৩১ মে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা আবার বেড়ে যেতে পারে; চট্টগ্রাম বিভাগসহ কিছু এলাকায় বজ্রসহ ভারী বর্ষণও হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে ঈদ ও পরবর্তী দিনগুলোতে আবহাওয়া পরিবর্তনশীল থাকতে পারে। সাধারণ লোকজনকে আবহাওয়া খেয়াল রেখে স্থানীয় সতর্কতা মেনে চলার এবং প্রয়োজন হলে বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—ছাতা, হালকা বৃষ্টি-প্রতিরোধী কোট এবং নিরাপদ রুট বিবেচনায় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।