রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসার উপর ধর্ষণ এবং গলা কেটে হত্যা মামলায় রায় দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার (৭ জুন) দিন ধার্য করেছেন আদালত। এই মামলায় রায় ঘোষণা নিয়ে আগামী রোববার ঢাকার মহানগর শিশু সংজ্ঞা দমন ট্রাইব্যুনাল প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিচারক মাসরুর সালেকীন এই মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় দেওয়ার জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন। এই সময় আদালত আসামি পক্ষের আইনজীবী তাদের মক্কেলকে নির্দোষ বলে দাবি করেন।
এর আগে, ১ জুন আদালত আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। পরের দিন, সেই অভিযোগে দাখিল করা ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এরপর, গতকাল, আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
২০২৩ সালের ২৪ মে, ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এর আগে, এই দিনই, বিচারকার্য শুরু করার জন্য অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান। এরপর এই মামলাটিকে ঢাকার মহানগর শিশু সংজ্ঞা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। আদালত এই মামলায় রাষ্ট্রের পক্ষে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে থাকেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টায় সে বাড়ি থেকে বের হয়। তখন থেকেই শিশুটির স্বপ্না নামে এক নারী কৌশলে তাকে নিজের রুমে নিয়ে যান।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা-বেড়ানো হয় এবং খোঁজ খবর নেন। তখন তিনি শিশুটির জুতার সন্ধান পান তার বাবার কাছ থেকেও। এরপর পরিবারের লোকজন ডেকে দরজা ভেঙে রুমে প্রবেশ করে দেখা যায়, রামিসার মাথা ব্যাধের মতো কাটা অবস্থায় শয়নকক্ষে পড়ে রয়েছে। সাথে মুখ ঢাকা একটি বড় বালতিতে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
অতিরিক্ত তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে পুলিশ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। ২০ মে, ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলার অভিযোগ দায়ের করেন।
এই ঘটনায় তদন্ত ও গ্রেপ্তারের ফলে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনের বিস্তারিত রহস্য উদঘাটিত হয়েছে, যা বিচার শেষে শাস্তির আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

