বাজেটের বাজে খবরের মধ্যে আরও এক ধাক্কা দিলো সরকার। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পর এখন বিদ্যুতের দামও বাড়ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঘোষণা করেছে, চলতি মাস থেকেই এই নতুন মূল্যহার কার্যকর হবে। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৫ থেকে ১৯.৯৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ পরিবারের জন্য খুবই নতুন চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও, পাইকারি দামে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জে ২৩.৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাইউইনিং এই ঘোষণা বুধবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বিস্তারিত তুলে ধরেন। জানানো হয়, গত ৩ থেকে ৬ মে এর মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদক, সঞ্চালক ও বিতরণকারী সংস্থাগুলো বিইআরসিতে সরাসরি আবেদন করে তাদের বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য। এই নতুন মূল্য নির্ধারণের ফলে, গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের গড় দাম প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৬৩ পয়সা এ কবে থেকে কার্যকর হবে। অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, এত দাম বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে কি পরিবারগুলো আরও বেশি চাপের মধ্যে পড়বে? সরকারি দফতর বলছে, আবাসিক গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন ধাপে ইউনিট প্রতি মূল্য নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে প্রথম ৫০ ইউনিটের জন্য দাম রাখা হয়েছে ৫ টাকা ৩২ পয়সা, এরপর ধাপে ধাপে বাড়তে বাড়তে ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে সেটি দাঁড়াবে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা পর্যন্ত। কৃষি ও সেচ কাজের জন্যও নতুন দাম ধার্য হয়েছে, যেখানে পাম্পের জন্য ইউনিটপ্রতি দাম নির্ধারিত হয়েছে ৬ টাকা ৪ পয়সা। বাণিজ্যিক ও অফিসিয়াল গ্রাহকদের জন্যও নতুন দাম চালু হয়েছে, যেখানে ফ্ল্যাট রেট ইউনিটপ্রতি ১৫ টাকা ৩৬ পয়সা থেকে শুরু করে নিয়মিত ব্যবহারে বাড়ানো হয়েছে। এসব পরিবর্তনের বিপক্ষে অনেক ভোক্তা, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতারা গণশুনানিতে তাদের আপত্তি জানিয়েছেন, বলছেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ গ্রাহকদের না ভোগানোই ভালো। এদিকে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সংস্থা আলাদা আলাদা দাম প্রস্তাব করেছিল। বিইআরসির প্রযুক্তি কমিটি বলছে, গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা মূল্য বৃদ্ধি করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল। এখন দেখা যাচ্ছে, সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কেবলই দাম বেড়ে চলেছে, আর এর ফলাফল কি হবে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

