জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নিয়ে চলা আলোচনা নিয়ে কোনো জটিলতা দেখছেন না খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতে তো থেকে এসেছে, যখন একজন ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। খলিলুর রহমান বলেন, “চাকরি ছাড়ব কি না, ছুটি নেব কি না, এটাই এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে? এটির কোনও প্রয়োজন নেই, কারণ এর প্রিসিডেন্স বা নেতৃত্বের দায়িত্ব স্থায়ী।” তিনি উল্লেখ করেন, চার দশক আগে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন, তখন তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। সেই সময়, ইন্টারনেটের যুগ এত দ্রুত এগিয়ে নি, কিন্তু এখন প্রযুক্তির এই সময়ে দুই দায়িত্ব পালন আরও সহজ।
গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পরাজিত করেন। নির্বাচনের পর থেকেই আলোচনা চলছিল—তিনি কি রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন, না কি পদত্যাগ বা ছুটি নেবেন এই দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য। তবে খলিলুর রহমান আগে বলেছিলেন, যদি নির্বাচিত হন, তাহলে তিনি সব পক্ষের জন্য নিরপেক্ষ ও পূর্ণকালীন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে এক বছরের জন্য ছুটিতে যেতে পারেন।
13 মে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনানুষ্ঠানিক সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কি পদত্যাগ করব? না। আমার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে স্পষ্ট করে বলেছেন, আমি পুরো দায়িত্ব পালন করব। শুধু ছুটিতে যেতে চাইলে, সেটাও সম্ভব।’ আজ আবারো সেই বক্তব্যের জের ধরে তিনি পরিষ্কার করেছেন, বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
খলিলুর রহমান আরও বলেছেন, অনেকের মনোযোগ জার্মানির উদাহরণে: যেখানে এক ব্যক্তি দায়িত্বে থাকলেও, দলের হার বা নির্বাচনে প্রার্থিতা হারানোর কারণে তিনি মন্ত্রী পদে থাকতে পারেননি। বিষয়টি ভিন্ন, কারণ সেখানে পরিস্থিতি আলাদা ছিল।

