সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারাদেশে নানা অংগে বজ্রঝড় এবং ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর সোমবার (৮ জুন) সকাল ৯টা থেকে আগামী ১২০ ঘণ্টার জন্য জারী করা পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া জানান, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বাতাস বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দিকে অগ্রসর হয়েছে। এই পরিস্থিতি আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে সারাদেশে আরও বিস্তার লাভ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আজ সকাল ৯টা থেকে ভবিষ্যতের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জায়গা, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় দমকা হাওয়া, বিদ্যুতের ঝলকানি এবং হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বর্ষণ বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে। দিন দিন তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, আর রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরবর্তী দিনে, মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ৯টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, সিলেট বিভাগের বেশ কিছু এলাকায়, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু স্থান এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎকরণ এবং বর্ষণ হতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভবনা রয়েছে। পূর্ববর্তী দিনের মতো, তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বুধবার (১০ জুন) সকালে আবার জানানো হয়েছে, সিলেট বিভাগের অনেক স্থান, আবাসিক এলাকায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে অস্থায়ী দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎচমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বর্ষণের সম্ভাবনা। কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে। দিন ও রাতে তাপমাত্রা সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বিভিন্ন বিভাগের অনেক স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎচমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বর্ষণ নাও হতে পারে। সারাদেশে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা বিদ্যমান। এর ফলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বা কিছুটা কমতে পারে।
শুক্রবার (১২ জুন) আবার জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন বিভাগের বেশ কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎচমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বর্ষণ হতে পারে। আবার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, এই বর্ষাকাল ধরে বিহীতভাবে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আগামী পাঁচ দিন আরও বাড়তে পারে যা বজায় থাকতে থাকবে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনের স্বাভাবিক গতিপথে কিছু বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং বর্ষার সঙ্গে জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কাও বেড়ে যেতে পারে।

