দেশের সব দোকানপাট, বিপণিবিতান ও শপিংমলকে প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার জন্য বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এক স্মারক চিঠি পাঠিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, বর্তমানে সন্ধ্যা ৭টার পরে দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে লাখো ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
চিঠিতে নেতারা উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসা পরিচালনার খরচ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, ব্যাংক ঋণের কিস্তি, কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য খরচ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে ব্যবসার উপর চাপ আরও বাড়ছে, যা ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন করে তুলছে।
তারা আরও বলেন, অধিকাংশ চাকরিজীবী ও মানুষ দিনের বেলায় কেনাকাটা করতে পারেন না। তারা বিকাল বা সন্ধ্যা শেষে বাজারে আসেন। যদি রাত ১০টার আগে দোকান বন্ধ করতে হয়, তবে বিক্রয় সীমিত হয়ে যাবে, যা ব্যবসায়ের ক্ষতি করবে। এতে ব্যবসার পরিমাণ সংকুচিত হবে এবং কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে ব্যবসায়ীদের অনুরোধে সেই সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করা হয়। ঈদুল আযহার আগে ১২ মে থেকে ঈদের জন্য রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে ঈদ শেষে পুনরায় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের নির্দেশনা কার্যকর হয়।
নেতারা মনে করেন, যদি রাত ১০টা পর্যন্ত ব্যবসা চালু রাখতে দেওয়া হয়, তাহলে দেশের প্রায় ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর জীবিকা সুরক্ষিত থাকবে, ব্যবসা- বাণিজ্য বিস্তৃত হবে, সরকারের রাজস্ব আয় বেড়ে যাবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

