সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা সংবলিত হাইকোর্টের রায়ের ওপর আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এর পাশাপাশি, এই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানির জন্য ১৬ জুনের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা পেছান হলো। এই নির্দেশনা হাইকোর্টের ওই রায়ে দেওয়া হয়েছিল, যা তিন মাসের মধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিলে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার আদেশ দেয়। এরপর, ২০২৩ সালের ৭ এপ্রিল হাইকোর্টের পুরো রায়টি তার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে, ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর আলাদা সচিবালয় করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমোদন দেয়। এরপর ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি হয়, যা পুরোপুরি কার্যকর হওয়া পর নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও অন্যান্য প্রশাসনিক কাজগুলো এই সচিবালয়ের দায়িত্বে আসে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ১১ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় কার্যক্রম শুরু হয়। তখনকার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এই ভবন উদ্বোধন করেন। এরপর, নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় সংক্রান্ত সব আইন প্রত্যাহার করা হয়। ২০২৩ সালের ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাস হয়, যা বিরোধীদলের সদস্যরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে নিন্দা জানান।
রহিতকরণের কারণে সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয়ের আইনগত ভিত্তি শেষ হয়, ফলে বিচারক নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আগের মতো আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে যায়। এরপর, ১৯ মে, সচিবালয়ে কর্মরত ১৫ জন কর্মকর্তা ও বিচারককে কর্মস্থলে ফেরত পাঠানো হয়।
অতিরিক্ত, রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ সংবলিত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে, এই আপিল চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেই রায় স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। মঙ্গলবার, এই শুনানির পর, প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আপিলের শুনানি শেষে রায় স্থগিতের আদেশ দেন।

