চলতি সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে ২১ বছরের অপেক্ষা ঘোচাল বাংলাদেশের ক্রিকেট দল। চার বছরের ছুটি কাটিয়ে দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেনের অলরাউন্ড দুর্দান্ত প্রদর্শনে বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমে উচ্ছ্বাস এনে দিল।
টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক; তার এ পারফরম্যান্সই ছিল দলের পুঁজি। জুমে ভালো অবদান ছিল অন্যান্য ব্যাটাররাও, যার ফলেই লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৮৫ রান।
উত্তর জবাবে অ্যাস্ট্রেলিয়া শুরুতেই তাসকিন আহমেদের ফুল-লেন্থ ডেলিভারিতে ওপেনার জশ শর্টকে দ্রুত হারায়; ইনিংসের পরবর্তী দিকে মুস্তাফিজুর রহমান মারনাস লাবুশেনকে কাটার নিয়ে এলবিডব্লিউ-র ফাঁদে ফেলেন। দ্বিতীয় ওভারের মধ্যে ২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে অজিরা।
কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ মিলেই পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে ক্রমে ৪৯ রানের জুটিতে তারা আশার আলো দেখান। তবু সেটি বেশি টিকতে পারেনি—নাহিদ রানার একটি উইকেট বাংলাদেশকে ফের ব্রেকথ্রু এনে দেয়; ইংলিস ২৫ বল করে ১৯ রান করে ফেরেন।
এরপর কনোলি-মর্নাস কনস্ট্রাক্টিভ জুটি ৪০ রান যোগ করলেও মোসাদ্দেক একবার আরও গুরুত্বপূর্ণ বোলিং করে কনোলিকে বোল্ড করেন। ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন জুটিতে ফিরিয়ে আনেন ফের খেলার উত্তেজনা, কিন্তু নাহিদ রানার বোলিংয়ে ক্যারি ফেরেন। দ্রুতই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস কুমড়ে-মুড়োতে শুরু করে এবং তারা ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রানে থেমে যায়।
ম্যাচের মাঝেই মাঝেমধ্যে ঝড়বৃষ্টি চলে আসে এবং শেষ পর্যন্ত খেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ডাকওার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ম্যাচের ফল নির্ধারণ হলে বাংলাদেশ ৮৬ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়। এই জয়ের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মোসাদ্দেক — ব্যাটে ৮৬* এবং বল-বিশেষেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে তিনি আটকে রাখেন অস্ট্রেলিয়ার ফিরে যাওয়ার গতি।
বিশেষত তা স্মরণীয় যে, ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের শেষ বিজয় ছিল ২০০৫ সালে কার্ডিফে; ঘরের মাঠে এ পর্যন্ত অজিদের বিপক্ষে এইটাই প্রথম ওয়ানডে জয়। ২১ বছর পর এই ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের জন্য স্বীকৃতি ও আত্মবিশ্বাস উভয়ই বাড়িয়ে দিয়েছে।