প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিরোধীদল দেশের শান্তি নষ্ট করতে প্রতিহত হচ্ছে এবং মানুষের বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে অস্থিতিশীলতার চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি খবরে দেখা গেছে, সামাজিক ও মানবিক বাজেটের পরেও দাম বাড়ানো ও ক্ষতিকারক দিকের বিষয়ে বারবার অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যা মূলত বিরোধী দলের উদ্দেশ্য মাত্র। আসলে এই বাজেটের লক্ষ্য মানুষকে বিভ্রান্ত করা নয়। বরং তিনি জানান, বর্তমান বাজেটে এখনো কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। এর পরিবর্তে ৬০টিরও বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উপর কর কমানো হয়েছে। শুধু মদ ও সিগারেটের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে, কারণ এগুলো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে বিরোধী দল বিষয়টি নিয়েও সমালোচনা করছে, যা তিনি জনগণের বোঝার বিষয় বলে উল্লেখ করেন।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজারের পিএমখালীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিরস্থানে পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ’ এই প্রতিশ্রুতির পুনর্ব্যক্ত করেন এবং কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য। সরকার দেশের ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। তিনি নিজে মাটিতে দাঁড়িয়ে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন এবং বলেন, এই প্রকল্পে প্রায় ৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। বছরে কৃষি উৎপাদন প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সদ্য ঘোষিত বাজেটে কৃষি খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা নগদ অর্থ ও প্রণোদনা পাবে। তিনি বলেন, কৃষকদের উন্নয়ন হল দেশের উন্নতি। নারীদের শিক্ষার প্রসারে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। আমরা সেই ধারা চালিয়ে যাচ্ছি এবং উচ্চশিক্ষায় প্রাথমিক সময়ের মতোই বিনামূল্যে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও, তিনি গ্রামে গঞ্জে সাধারণ মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু, স্বাস্থ্যসেবা সহজে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ, সুলভ ওষুধ সরবরাহের উদ্যোগের কথা জানিয়ে বলেন, হার্টের রিং ও কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য ব্যবহৃত চিকিৎসা উপকরণ ও ওষুধের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করা হয়েছে যাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমে যায়।
প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়গুলো উল্লেখ করে বলেন, দেশের মালিক ২০ কোটি 국민। তাদের কল্যাণে সরকারের সব পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি পরিচালিত হয়। নীতি অনুসারে, এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির ওপর ভিত্তি করে, যার উদ্যোগে এই খাল খননের প্রকল্প শুরু হয়েছিল। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান এটি উদ্বোধন করেছিলেন। এখন তার ছেলে তারেক রহমান একই খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করেছেন।
এর আগে সকালে কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও অতিথিদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। দিনব্যাপী নানা উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপণ, বিভিন্ন স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা ও সুধী সমাবেশ। সবশেষে, রাত গভীরের দিকে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

