অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটটি সর্বোচ্চভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্য নিয়েই তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাজেটে যে নীতিগুলো নেওয়া হয়েছে তা বাস্তবে কিভাবে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে—এই দিকটিই তাদের পরিকল্পনার মূলেই রয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সম্মেলনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি জানান, বাজেটে প্রতিটি বিভাগ ও উদ্যোগকে প্রত্যক্ষ নীতিতে পরিণত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে সর্বস্তরের মানুষ সাম্যভাবে সুযোগ পায়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমার মনে হয়, এতে থেকে অধিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কিছু কল্পনা করা কঠিন। আমরা দেশের প্রতিটি নাগরিককে বিবেচনায় এনেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, কিছু বন্ধুই তাকে ‘বামপন্থী-ঘেঁষা’ নীতির অনুসারী বলেছিল—কারণ সরকারের স্বাস্থ্যে ও কল্যাণে কিছু ব্যাপক কর্মসূচি রাখা হয়েছে। তবে তাঁর যুক্তি, দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক প্রধান স্রোত থেকে বঞ্চিত মানুষদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনাই মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “যেকোনও টেকসই উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি অপরিহার্য। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—এই অন্তর্ভুক্তিকে কিভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়, সে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
অর্থমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, দেশের গ্রামীণ কারিগর, নাট্যশিল্পী, গায়ক, ডিজাইনার ও চিত্রশিল্পীদের মতো সৃজনশীল শিল্পীরা অগণিত প্রতিভা বয়ে বেড়ান। কিন্তু তাদের পণ্য ও সেবাকে আর্থিকভাবে সংগঠিত করে মূল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি। যদি এসব খাতকে সংগঠিত করে, প্রশিক্ষণ ও বাজারের সুযোগ দেয়া যায়, তাহলে সেগুলো থেকেও বড় আয়ের উৎস সৃষ্টি করা সম্ভব। তিনি থাইল্যান্ডের উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন, আশির দশকে থাইল্যান্ডের পরিস্থিতি কঠিন ছিল, কিন্তু সৃজনশীল অর্থনীতিতে মনোনিবেশ করে তারা বড় ধাক্কায় সফলতা পেয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের এক বৃহৎ বাজেট ঘোষণা করে, যার পরিমাণ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ওই দিন বাজেটটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি বিএনপি সরকারের ১৭তম বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমীর খসরুর প্রথম বাজেট।
