স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, নারীস্বাস্থ্যের উন্নতিতে সরকার দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই দুটি হাসপাতাল হবে দেড় হাজার শয্যার এবং সেখানে কিডনি ডায়ালাইসিস, স্তন ও জরায়ু ক্যানসার চিকিৎসা, পঙ্গুত্ব পুনর্বাসন, প্রসূতি ও মাতৃসেবা সহ সাধারণ চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করা হবে। রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন। ওই অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালসহ দেশের ১০টি জেলার সরকারি হাসপাতালে নতুন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিট উদ্বোধন করা হয়। ভার্চুয়ালি যুক্ত হন আরও negenটি জেলার হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী সারা দেশে মোট ২০টি নতুন হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল ছাড়া আরো ১৮টি হবে এক হাজার শয্যার আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র। তিনি আরও জানান, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে প্রতিটি হাসপাতালে পাঁচটি করে আধুনিক অ্যান্টি অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হবে, এবং গুরুতর রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করতে চারটি হেলিকপ্টার সংযুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে রোগীদের দ্রুত সদর হাসপাতাল বা ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে নেওয়া সম্ভব হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরে সারা দেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজারই নারী স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যের পরীক্ষণ, স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেবে। তিনি বলেন, আগামী ১ জুলাইয়ের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে, যাতে স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা যায়। নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থেবা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, জনসংখ্যা ঘনত্ব বিবেচনায় এখানে আরো হাসপাতালের প্রয়োজন রয়েছে; বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রীকে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি, কুটির শিল্পের উন্নয়নের জন্য সরকারের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে পূর্বাচলে ১৬০ একরের ওপর একটি সৃজনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা, যেখানে শীতলপাটি, নকশিকাঁথা, টেরাকোটা, তালপাতার পণ্যসহ বিভিন্ন কুটির শিল্পের প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীদের যথাসম্ভব নিজ নিজ জেলাতেই চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় রেফারেল এড়াতে হবে, কারণ রোগী স্থানান্তর অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি আরও জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই নতুন আইসিইউ ইউনিটগুলোতে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যেমন সিপ্যাপ, বাইপ্যাপ এবং হাই-ফ্লো নেজাল ক্যানুলা সরবরাহ করা হবে।

