রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আপিলের শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত করেছে হাইকোর্ট। আসামিদের জেল আপিল গ্রহণের ফলে এখন মামলার শুনানি যেকোনো দিন শুরু হতে পারে। বুধবার (১৬ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
১৯ মে পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারে মাত্র ১৯ দিন পরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মূল আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া, সোহেল রানা’Um ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
আদালত নির্দেশ দেন, এই অর্থভুক্ত অর্থ রামিসার উত্তরাধিকারীরা পাবেন। যদি আসামিরা জরিমানা পরিশোধে অক্ষম হন, তবে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই টাকা ভিকটিমের পরিবারকে দেওয়া হবে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। প্রধান আসামি সোহেল রানা স্বেচ্ছায় তার অপরাধ স্বীকার করেছেন, এ সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার স্বামীকে পালাতে সহায়তা করেন। অপরাধ সংঘটনের ঘটনায় তাদের ভূমিকা এবং এর প্রতিরোধে কোনো উদ্যোগ না নেওয়া সংক্রান্ত বিষয়গুলোও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
আদালত এ ব্যাপারে ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য ৯ জুন বিচারিক আদালতের সমাপ্ত রায় ও মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠায়। ওই দিনই মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। 이후 ১১ জুন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দুই আসামি পৃথকভাবে জেল আপিল করেন।
গত ১৪ জুন বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আপিল দুটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। সম্প্রতি, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ বেঞ্চে এই বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।
এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের জেল আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুত করে। এই সমস্ত প্রস্তুতি মামলার দ্রুত শুনানি ও সিদ্ধান্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
