প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি মৌলভীবাজারে এক জনসমাবেশে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যারা সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না বলে হুমকি দিচ্ছে, তারা নিজেদের স্বার্থের কথা বলছে। এই ধরনের বক্তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বিএনপি আগামী পাঁচ বছর দেশের নেতৃত্ব দেবে এবং তাদের প্রত্যাশিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাবে। অর্থাৎ, দেশের জনগণ তাদের ওপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস রেখে এই সময় দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা বলে বিএনপির জন্য সময় দেওয়া উচিত নয়, তারা কোনোভাবে দেশের স্বার্থে কাজ করছে না। এইসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। মৌলভীবাজারের এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি, যেখানে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজসহ নানা বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হয়।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গণতন্ত্রের সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী এই ব্যক্তি ও দলগুলো ইতিহাসে নানা অন্ধকার দিক দিয়ে চিহ্নিত, যেমন- একাত্তরে কী ঘটেছিল, ৮৬ এর আন্দোলন, তার অব্যাহত চেনা ইতিহাস। তিনি বলেন, যদি বর্তমানে শহীদদের তালিকা তৈরি করা হয়, তাহলে দেখা যাবে বেশিরভাগ শহীদ ছাত্রদলের কর্মী, যারা স্বজন হারিয়েছে, যারা বিরোধী দলে থাকাকালীন নিরীহ মানুষ হত্যায় জড়িত ছিল।
বিএনপির প্রতি মানুষের ম্যান্ডেটের উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ তাদের দেশ গড়ার জন্য পাঁচ বছর সময় দিয়েছে। দেশের স্বৈরাচারী শাসনাবস্থা সরিয়ে দিয়ে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। নতুন সহকারে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে হবে সবাইকে।
প্রধানমন্ত্রী বিকেলে মৌলভীবাজারে এসে প্রান্তিক নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন। সিলেটসহ অন্যান্য ২১ জেলার জন্য এই প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন তিনি। এছাড়াও, বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ এবং দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করেন।
তিনি বলেন, যারা মনে করে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা আসলে দেশের ভবিষ্যৎের স্বার্থে কাজ করছে না। বরং জনগণ সতর্ক থাকলে বিএনপির সত্যিকারের কোনও প্রভাব থাকবে না। দেশের মালিক তিনি, জনগণ। দেশের অর্থ, সম্পদ সবকিছু দেশের উন্নয়নে ব্যয় হবে।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার হয়নি, তা রুখে দেওয়া হবে। জনগণের অর্থ, সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে সদা সজাগ থাকতে হবে। ভবিষ্যতে দেশের জন্য পরিকল্পনা করতে চাইলে সতর্কতা ও একতা জরুরি।
তিনি বলেন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের জনগণকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছিলেন জনগণ। এই দেশের উন্নয়ন ও গড়ে তোলার কাজও জনগণের দায়িত্ব।
উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আসুন আমরা সবাই হাত তুলে প্রতিজ্ঞা করি যে, ভবিষ্যতের রাজনীতি দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য হবে। সরকারের নানা প্রকল্প, উন্নয়নমূলক কাজগুলো যেন দেশের সকল মানুষের জন্য উপকার হয়; এতে সবাই একসাথে কাজ করবে।
অতীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উল্লেখ করে বলেন, দেশের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাব। বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের কারণে সকল শ্রেণির মানুষের উপকার হচ্ছে।
নির্বাচনী ফলাফলের অঙ্গীকারে তিনি জানান, বিএনপি ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলেও, সকল পেশার মানুষের সরকার হচ্ছে এই দেশ। জনগণের স্বার্থে, তাদের উন্নয়নের জন্যই এই সরকারের কাজ।
অর্থমন্ত্রী জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথাও স্মরণ করে বলেন, এক যুগের বেশি সময় মৌলভীবাজারে কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। এখন থেকে আমরা সবাই মিলে দেশের সম্পদ ও অর্থ সুরক্ষা করব।
সার্বিকভাবে, এই সমাবেশ ও কর্মসূচির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এ দেশের সংহতি ও উন্নয়নের পক্ষে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন এবং জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন। শেষ করে চলতি পথে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
