যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানীয় বিশাল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন যে বর্তমানে ওই অর্থ আমেরিকার কাছে রয়েছে এবং তা ইরানের নিজস্ব সম্পদ।
বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ওই অর্থ আমরা নির্দিষ্ট সময়ে জব্দ করেছিলাম, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তা ফেরত দিতে হবে — নইলে বিশ্বজুড়ে কেউ ডলারে বিনিয়োগ করবে না।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে দুই দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ। সূত্রে বলা হচ্ছে, বুধবারই ইলেকট্রনিক মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওই সমঝোতার প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে — সব ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা। পাশাপাশি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুনভাবে আলোচনা করার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথও তৈরি করা হচ্ছে।
চুক্তির বিবরণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশ হিসেবে কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি ‘চূড়ান্ত এবং পারস্পরিকভাবে সম্মত পরিকল্পনা’ প্রস্তুত করতে তাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।
ট্রাম্প আরও জানান, ‘‘আমরা সরাসরি নিজেদের পকেট থেকে টাকা দিচ্ছি না। ইরান যদি চুক্তি ঠিকভাবে মানে এবং সেখানে বিনিয়োগ নিরাপদ মনে করে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে চাইলে তারা করতে পারবে। তখন ওই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলটি কার্যকর হবে।’‘ তিনি উল্লেখ করেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে ইতোমধ্যে ইরানের বড় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে—কথায় কথায় তিনি এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতির উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র পক্ষ থেকে প্রকাশিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে একটি সম্মত সময়সূচি অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে থাকা সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে ওয়াশিংটন পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গভর্নিং বোর্ডের প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে আরোপিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
