বাংলাদেশ ব্যাংকের ঐতিহাসিক রিজার্ভ চুরি মামলায় সংশ্লিষ্ট ১০ বাংলাদেশি ব্যক্তির নাম উঠে আসার পর, পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এখন তাদের গ্রেফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘ তদন্তের পর এই মামলার জন্য এক খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করছে সিআইডি, যেখানে সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ দেশের ব্যাংকিং ক্ষেত্রের বেশ কিছু কর্মকর্তা অভিযুক্ত হয়েছেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে দায়িত্ব অবহেলা, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় খামতি এবং ঘটনার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার বিষয়গুলো। এখন এই অভিযুক্তদের গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় আইনগত এবং প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তুতি নেবার কাজে সর্তক থাকতে হচ্ছে সংস্থাটিকে।
সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি আলী আকবর খান জানিয়েছেন, এই মামলার তদন্ত অন্যান্য মামলার মতোই দীর্ঘ এবং জটিল। অনেক দেশি-বিদেশি সংস্থা থেকে সহায়তা নিয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই থেকে পাওয়া রিপোর্ট দ্রুত মূল্যায়ন করা হচ্ছে, যাতে চুরির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। তিনি বলছেন, তদন্ত প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘ হলেও, অভিযোগপত্র প্রস্তুত হওয়ার পর দ্রুতই প্রাসঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে। হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট ব্যবস্থায় ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়, যা বিশ্লেষণে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত ও আর্থিক নিরাপত্তার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহজে লঙ্ঘন হয় এবং কর্মকর্তারা দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণ না করায় মূল চুরির ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীরা আরও জানিয়ে থাকেন, তখন থেকেই তদন্ত চলতে থাকছে, এবং এখন সব তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

