চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারে একটি হোটেলে পদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীর সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় আচরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা ও নেত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার জেরে ওই তরুণী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, যেখানে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। এর আগে তিনি শুক্রবার চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ির এক রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে সম্পূর্ণ ঘটনা উল্লেখ করেন। আবারও, গত বুধবার চকবাজার থানায় জিডি করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগে জানানো হয়, তরুণী চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানার বাসিন্দা এবং এনসিপির সক্রিয় কর্মী। অভিযুক্তরা হলেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. সুজা উদ্দীন এবং এনসিপির নারী শাখার কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া আফরিন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৪ জুন সন্ধ্যায় তারা ওই তরুণীকে চকবাজারের পেনিনসুলা হোটেলের টপ ফ্লোরে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে সাক্ষাতের উদ্দেশ্য ছিল এনসিপির নতুন কমিটি গঠনসংক্রান্ত আলোচনা। তবে পৌঁছামাত্র তারা তাকে różnych অপ্রতিকর ও অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতে শুরু করেন এবং শ্লীলতাহনী করার চেষ্টা চালান। প্রতিবাদ করায় তাদের রাগ ও ক্ষোভ বাড়ে, প্রতিশোধের ভয়ে তারা প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ভুক্তভোগী তরুণী এই ঘটনার এক দফা ছবি ও ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। তিনি জানান, তারা তাকে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ ও চাকরির প্রলোভন দেখানোর জন্য এই খারাপ আচরণ করেন। হামলার সময় তিনি অস্বস্তিবোধ করেন ও বুঝতে পারেন যে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল যৌন হয়রানি। তরুণী বলেন, এই ঘটনায় তিনি নিরাপত্তার জন্য গুরুতর শঙ্কিত, এমনকি পুলিশে অভিযোগও করেছেন। হোটেলের ব্যবস্থাপকের কাছে যখন এই বিষয়ে জানানো হয়, তিনি বলেন, তাদের রুফটপ এলাকাটি মূলত একটি বার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা জানেন না। তদন্তের জন্য পুলিশ সেখানে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বার বার চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় তাদের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, এই ঘটনার ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার ব্যাপারে সমাজে ব্যাপক আলোচণা শুরু হয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

