বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরো মজবুত ও গতিশীল করতে সোমবার উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার উন্মুক্ত করা, অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধতা প্রদান এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের শেষ দিকে, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিতিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত ও বিনিময় করা হয়েছে। এসব চুক্তির মধ্যে রয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক এক সমঝোতা স্মারক, সন্ত্রাসবাদ দমন সম্পর্কিত গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যৌথ দলিল এবং বিনিয়োগে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা। দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই দলিলগুলো হস্তান্তর করেন।
সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পারদানা পুত্রা’ ভবনে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রথমে একান্ত বৈঠক করেন। পরে, তাদের নেতৃত্বে দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয় সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়েছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ায় নতুন শ্রমিক নিয়োগের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্তের জোরালো আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে, অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া এবং তাদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
অর্থনীতির দিক থেকে, বাংলাদেশের আমদানি করা ফলমূল, শাকসবজি ও দরকারি পণ্য মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশের নানা ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও, আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদন ও ‘রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ অর্থনৈতিক চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য মালয়েশিয়ার সমর্থনের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।
এছাড়া, দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধানসহ, জাতিসংঘ ও অন্য আন্তর্জাতিক ফোরামে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক ও চুক্তি স্বাক্ষরের পর, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীরা এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। এতে তারা ভবিষ্যত সম্পর্ক আরও অধিক বিনিয়োগ, সহযোগিতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশ্বাস ব্যক্ত করেন।

