চলতি বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে চমক দেখাচ্ছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। গ্রুপ ‘জি’-র শুরু থেকেই ‘টিম মেলি’ তাদের শক্তি দেখিয়েছে—নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ ড্রয়ের পর বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে ম্যাচ শেষে সমর্থকদের উদ্দেশে একটি হাতে লেখা আবেগঘন চিঠি রেখে যায় ইরানি শিবির, যা স্থানীয় প্রবাসী ও ভক্তদের দারুণ ছুঁয়ে দিয়েছে।
আইএসএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো দল মাঠ ছাড়বার আগে ওই চিঠিটি রেখে যায়। চিঠিতে প্রাচীন পারস্যের গৌরব স্মরণ করে লেখা ছিল: ‘হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে শুরু করে আজকের সভ্য ইরান। আমাদের এই আত্মিক শক্তি সবসময় জীবিত এবং অবিচল থাকবে।’
চিঠিতে লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রবাসী ইরানি ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়—‘আমরা অত্যন্ত গর্বের সাথে লস অ্যাঞ্জেলসে এসেছিলাম, সম্মানের সঙ্গে লড়াই করেছি এবং মাথা উঁচু করেই বিদায় নিচ্ছি। লস অ্যাঞ্জেলস, তোমাদের এই চমৎকার আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ।’ পাশাপাশি মাঠে দাঁড়ানো ইরানি ভক্তদেরও ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা ছিল, যারা প্রতিটি সেকেন্ডে দলের পাশে থেকে বুকভরা সমর্থন ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন। চিঠির শেষ অংশে বিশ্বের সব জাতির মধ্যে শান্তি, শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্ব বজায় রাখার কামনা করা হয়।
মাঠের পারফরম্যান্সে বীরত্বের মূল নায়ক ছিলেন ৩৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলকিপার আলিরেজা বেইরানভান্দ। পুরো ম্যাচে তিনি একের পর এক সংকটময় গতির সেভে দলকে রক্ষা করেন—ম্যাচে মোট সাতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন, যার মধ্যে চারটি ছিল ডাইভিং সেভ। পরিসংখ্যান বলছে, তিনি প্রায় ১.৭০ এক্সপেক্টেড গোল (xG) প্রতিহত করেছেন। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের প্রেক্ষিতে ম্যাচসেরার পুরস্কারও তারই দখলে যায়।
হারের সামনে থেকে দলকে টেনে নেওয়ার এক সুযোগ জানা যায় তখনই, যখন ম্যাচের ৬৬ মিনিটে বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার নাথান এনগয় লাল কার্ড দেখেন এবং তাদের দল ১০ জনে পড়ে। সেই পরিস্থিতে ইরান সুযোগ কাজে লাগিয়ে মূল্যবান একটি পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয়।
দুই ম্যাচে টানা দুই ড্রয়ে ইরান এখন গ্রুপ ‘জি’-তে ২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবং নকআউট পর্বে যাওয়ার আশা শক্তভাবে জমে রেখেছে। মিশর নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষে আছে, বেলজিয়াম তৃতীয় স্থানে এবং নিউজিল্যান্ড এখন তলানিতে রয়েছে।
গ্রুপ পর্বের শেষ ও ভাগ্যনির্ধারক ম্যাচে আগামী শনিবার ইরান সিয়াটলেও মিশরের মুখোমুখি হবে। ওই ম্যাচে এক ইতিবাচক ফলই ইরানকে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-তে পৌঁছে দেবে। দলের মনোবল উঁচু, আর সমর্থকদের প্রত্যাশাও এখন আরও বেড়েছে।