রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির স্বামী মির্জা আবুল বাশার (মামুন)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পুলিশের ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন স্তরে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে হয় গুলশান-২, ২৮ নম্বর সড়কের ওই বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। ডিএমপির গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এসি শাহ মোস্তফা জানান, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি পুলিশের এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। কয়েকদিন ধরে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।
পুলিশরাও শনিবার সকালে বাসাটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিশেষ কায়দায় বাথরুমের পেছনে তৈরি একটি সুড়ঙ্গের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করে। ব্যাংকিং চেক ও অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ।
গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় আবুল বাশারের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। গুলশান থানায় দায়ের করা এক প্রতারণার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক গ্রেফতার হওয়ার আগে গত বছরের অক্টোবরেও প্রতারণার অভিযোগে তাকে আগেরবার আটক করেছিল পুলিশ; পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও প্রতারণামুখী কাজ শুরু করার অভিযোগ রয়েছে।
শুধু ব্যক্তিগত পরিচয়ে নয়, আবুল বাশার ‘বিটিএল গ্রুপ’ নামের প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। ওই গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগও সামনে এসেছে। বিশেষ করে গত কোরবানি ঈদের আগে একটি এগ্রো খামার থেকে ৮টি গরু নেয়ার পর ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক দিয়েও পেমেন্ট না করার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ বলছে, তদন্তের অংশ হিসেবে আরও সাক্ষ্য ও কাগজপত্র যাচাই করা হবে এবং প্রয়োজন হলে অভিযুক্তকে বিভিন্ন থানার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তোলা হবে।
