অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের ফ্রিল্যান্সার, তরুণ উদ্যোক্তা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠান পেপ্যালসহ বহুজাতিক বেশ কিছু পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং বৈদেশিক আয় সহজেই দেশে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
সোমবার ঢাকায় রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকারের নতুন বাজেটে তরুণ প্রজন্মকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্টার্টআপ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য করের সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বিদেশ থেকে আনা বৈদেশিক আয় সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে, পাঁচ হাজার ডলারের বেশি বৈদেশিক আয় হলে কোনো জটিলতা ছাড়াই তা দেশে আনা যাবে, এবং অতিরিক্ত ফরম পূরণ করতে হবে না। এর পাশাপাশি, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক লেনদেনের প্ল্যাটফর্মগুলোও আরও সহজ ও উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট ও ট্রানজেকশন সার্ভিসের প্রতিষ্ঠানের আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে পেপ্যালসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান בישראלের কার্যক্রম চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এই বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।’
ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশকে একটি বাস্তব অর্থে সম্পন্ন ডিজিটাল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি সেবা ধীরে ধীরে অনলাইনে এবং রিয়েল-টাইম প্ল্যাটফর্মে আনা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষকে সরকারি দপ্তরে গিয়ে হয়রানি এবং সময় নষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
তিনি বলCompartত, যদি সরকারি সেবা ডিজিটাল হয়, তবে দুর্নীতি কমবে, সেবার গতি বাড়বে এবং কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ কমে যাবে। এজন্য শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট অবকাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের অর্থনীতির বাস্তবতা বিবেচনা করে স্বল্প সময়ের মধ্যে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে, এবং এই প্রত্যাশা পূরণের জন্যই এবারের বাজেটে বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে দেশের অর্থনীতি কিছু অম্বল গোষ্ঠীর স্বার্থে কেন্দ্রীভূত ছিল। সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন’ এর পথ। এতে অর্থনীতির সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।
অর্থমন্ত্রী সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়নের পক্ষে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, কামার, কুমার, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তা, বাউলশিল্পী, পালাগান ও থিয়েটার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অন্যতম হলো, পূর্বাচলের ১৬০ একর জমিতে একটি থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, ট্রান্সকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমানসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা।
