বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং বহির্খাতের সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সরকার বাজেটে বিশেষ পরিকল্পনা ও ‘থ্রি-আর’ কৌশল গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার অর্থমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জালাল উদ্দিনের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে এ তথ্য তুলে ধরেছেন। বিকেল তিনটায় শুরু হওয়া এই অধিবেশনে সভাকক্ষে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এদিন মূলত লিখিত প্রশ্নোত্তর মাধ্যমে আলোচনা হয়। অর্থমন্ত্রী জানান, বহির্খাতের ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য সরকার ‘থ্রি-আর’ স্ট্র্যাটেজি বা তিনটি মূল নীতিকে অনুসরণ করছে। এর অর্থ হল: রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন (পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা), রেস্টোরেশন (পুনরুদ্ধার) এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেশন (বৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠন)। এই কৌশলের মাধ্যমে সব ধরনের অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা কমাতে, রপ্তানি বৈচিত্র্য আনতে এবং উৎপাদনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেশের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, এ চিন্তা থেকে সরকার নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করার উদ্যোগ নিচ্ছে। রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া এবং নর্থ মেসিডোনিয়ার সঙ্গে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে বৈধ চ্যানেলে নগদ প্রণোদনা ২.৫ শতাংশ অব্যাহত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুদৃঢ় করার জন্য রপ্তানি বৈচিত্র্য আনতে, অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণে এবং টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে সরকার কার্যকর কৌশল গ্রহণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি, এলএনজি ও সার মূল্যবৃদ্ধি রোধে বহুমুখী উৎসের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার বিষয়গুলো বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়েছে।

