স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, দেশের স্বাস্থ্যখাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা যেন সম্পূর্ণভাবে জনবান্ধব, দুর্নীতিমুক্ত এবং জবাবদিহিমূলক হয়, এজন্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবিচলভাবে অনুসরণ করছে। বৃহস্পতিবার তিনি এই কথা বলেন সংসদে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সরকারি সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের স্পষ্টপ্রশ্নের জবাবে।
মন্ত্রী আরও জানান, জনগণের প্রথামেই মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দালালচক্র ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি স্তরে ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে সেবা মান বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ কড়া ভাবে কমে এসেছে। কেন্দ্র থেকে ওষুধ সরবরাহের জন্য ‘সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সिसটেম’ আধুনিকীকরণ করা হয়েছে, যা অধিক কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করে।
এছাড়াও, টেলিমেডিসিন সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজ করে তোলা হয়েছে, যার ফলে ব্যাপকভাবে হয়রানি কমে গেছে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া আরও সহজ হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতেও রোগীদের মতামত নেওয়া, সেবার মান নিয়ন্ত্রণে পর্যবেক্ষণ এবং দুর্নীতি রোধে শক্তিশালী তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপরাধী বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে কঠোর একশন নেওয়া হচ্ছে। সরকার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে এবং নীতিমালা সংশোধনের কাজ চলছে যাতে অতিরিক্ত মুনাফালোভিদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
সরকারের লক্ষ্য, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যের সংযুক্ত একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য ডাটাবেজ তৈরি করা, যা স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে হয়রানি কমাতে ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে যাতে দালালের পরিবেশ থেকে মুক্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
এদিকে, হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে টিকা গ্রহণে অনীহার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনে করেন। ঝোঁক, অসম্পূর্ণ টিকাদান ও জনসচেতনতার অভাবের পাশাপাশি ভৌগোলিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতাও রোগের বিস্তারে সহায়ক। তিনি জানান, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার নানা স্তরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যেখানে টিকার আওতায় সব শিশুকে আনয়ন ও শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, হামের কারণে মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের দৃষ্টিতে আনা জন্য পর্যাপ্ত তথ্য এবং প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোনও কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠান দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে, সংশ্লিষ্ট বিধি অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকার এক্সক্লুসিভ ইনকামেশন প্রোগ্রামের আওতায় টিকা সরবরাহ, সংগ্রহ এবং বিতরণ কাজ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী চালাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে টিকা সরবরাহের ধারাবাহিকতা রক্ষা, মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদার, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, প্রাদুর্ভাব দ্রুত শনাক্তকরণ ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা সুদৃঢ় করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় আরো উন্নত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, দেশে হামের টিকাদানের কভারেজ বাড়ানোর জন্যও বিশেষ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপক্ষো কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সব মিলিয়ে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরো স্বচ্ছ, দক্ষ ও জনবান্ধব করে তোলার জন্য সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

