জানুয়ারির বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন বিসিবির সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ — বিশেষ করে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আইসিসিকে পাঠানো চিঠিকে নিয়ে। সোমবার তিনি দাবি করেছেন, ওই চিঠি সম্পর্কিত কোনো তথ্য তার কাছে নেই এবং সে সম্পর্কে তিনি ‘‘একেবারেই জানেন না।’’
পটভূমি সংক্ষেপে—জুলাই আন্দোলনের পর ফারুক আহমেদ বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। মধ্যপথেই ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। পরবর্তীকালে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের তত্ত্বাবধানে ফারুক সহ-সভাপতির পদে ছিলেন, কিন্তু অভিযোগ-ঘটনার সূত্রে পুরো বোর্ড মেয়াদপূর্তির আগেই ভেঙে যায়। এরপর তামিম ইমাম নেতৃত্বাধীন এডহক কমিটি এবং পরে নির্বাচিত বোর্ড গঠিত হলেও ফারুককে নতুন কোন অবস্থানেই দেখা যায়নি।
বুলবুল মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আইসিসিকে অভিযোগ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন — এই খবর সামনে আসার পর ফারুক আজ তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘আইসিসিকে চিঠি দেওয়ার ব্যাপারে কিছুই জানি না। জানি না মানে একদমই জানি না। পুরোটা পড়ে দেখবারও সময় ছিল না, আমি ব্যস্ত ছিলাম। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না, আপনাদের পরিষ্কার করার জন্য বলছি।’’
তবে তিনি একই সময়ে বলেন, ‘‘চিঠিটা আমি তো দেখেছি গত পরশু — লাইন বাই লাইন। চিঠিটা আমার কাছে এসেছে, পয়েন্ট বাই পয়েন্ট। আমি পড়িনি, তবে আইসিসিতে গেছে কিনা বলতে পারব না, কারণ এখন আইসিসির সাথে আমার কোনো কানেকশন নেই।’’
ফারুক আরও বলেন, তিনি প্রায়ই কোনো বিতর্ক বা ঘটনায় অনায়াসে জড়িয়ে ফেলা হন বলে মনে করেন। ‘‘আমি এটার অংশ আছি কি না—একটা স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে জড়িয়ে ফেলে। এজন্যই এটা সবার সামনে পরিষ্কার হওয়া দরকার,’’ তিনি যোগ করেন।
নিজেকে নির্বাক থাকার প্রসঙ্গত তিনি স্মরণ করিয়েছেন, সভাপতির পদ থেকে সরানোর সময় তিনি আইসিসির কাছে অভিযোগ করেননি বা কোনো চিঠি দেননি। ‘‘ওই সময় আমি কোনো অভিযোগ করিনি, একটা চিঠিও দিইনি। সেই জায়গা থেকে মোটামুটি নিশ্চিত থাকতে পারেন, এখানে আমার হাত নেই, আমি জানি না,’’ তিনি বলেন।
শেষে signatures সংক্রান্ত বিতর্কে ফারুক বলেন, বুলবুলের বোর্ডে যারা ছিলেন তারা চিঠিটিকে সমর্থন দিয়েছেন — কিন্তু আইসিসিতে পাঠানো চিঠিতে তার কোনো স্বাক্ষর নেই। ‘‘বলেছি তো রিটের (হাইকোর্টের) স্বাক্ষর আছে। তবে আইসিসির এই চিঠিতে আমাদের কোনো স্বাক্ষর নেই। আমার নেই। আমি আলাদা কোনো সই করিনি। যদি কেউ আমার সই বের করে দিতে পারে, তাকে চ্যালেঞ্জ করছি,’’ তিনি বলেন।
ফারুক বলেন, বুলবুল নিজে সম্ভবত কিছু বিবৃতি দিয়েছেন; সেই বিবৃতি থেকেই সত্যতা পরিষ্কার হবে। এখনও পর্যন্ত আইসিসিতে চিঠি পৌঁছেছে কি না কিংবা সেখানে কি বলা হয়েছে — এ ধরনের তথ্য তার কাছে নেই।
