বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধ (জুলাই–ডিসেম্বর) কার্যকরের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়; তবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান মঙ্গলবার (৩০ জুন) নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন এবং নীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি প্রণয়নের সময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য রাখতে কাজ করে। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ ও বৈদেশিক সম্পদের পরিচালনার পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।
নতুন মুদ্রানীতিতে নীতিগত সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর রেপো রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল। চলতি মুদ্রানীতির প্রসঙ্গে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১.৫০ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৭.৫ শতাংশ হিসেবে বজায় থাকবে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এই সুদহার প্রযোজ্য হবে এবং নতুন নীতিতে এগুলো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বর্তমান তুলনায় বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্য ছিল ৮ শতাংশ, কিন্তু মে মাসে বাস্তব প্রবৃদ্ধি কেবল ৫ শতাংশে এসে থামেছে। তাই ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই–ডিসেম্বর) বেসরকারি খাতের ঋণ বৃদ্ধির নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬.৮ শতাংশ। অর্থাৎ পূর্বের ৮ শতাংশের তুলনায় লক্ষ্য কমানো হলেও সাম্প্রতিক প্রকৃত বৃদ্ধি (৫%) থেকে এই নতুন লক্ষ্যমাত্রা বেশি।
অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ঋণ (সরকারি ব্যতীত) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১০.৫ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও বিনিয়োগকে অক্ষত রেখে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সরকার গত ১১ জুন প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ঘোষণা করে—যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখে। তবে এখনি দেশজুড়ে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য থেকে প্রায় দুই শতাংশ বেশি রেকর্ড করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.১৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক চলমান চিত্রে মে মাসের পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.৪২ শতাংশ; এর মধ্যে খাদ্যমূল্যস্ফীতি ৯.০৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.৭১ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য—মুদ্রানীতি এমনভাবে পরিচালনা করা যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং একসঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। নতুন নীতিতে এ লক্ষ্য ও প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখে হিসাব করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।