বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশ কোনো একটি দলের মালিকানা নয়, এটি কেবল সরকারের বা বিরোধী দলের নয়—দেশটি আপামর জনতার। রাজনৈতিক নেতাদের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের জীবন, সম্পদ ও সম্মান রক্ষা করা।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে ঢাকা-১৫ আসনে নাগরিক দুঃখ-দুর্ভোগ নিরসনের লক্ষ্যে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের চৌকিদার, পাহারাদার—আর কিছু নই। আপনারা আমাদের প্রভু; আমরা আপনার জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের রক্ষায় কাজ করতে চাই।”
শহরের সড়ক দখলমুক্ত রাখার গুরুত্ব জোর দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, রাস্তা ব্যবসার জন্য নয় বরং মানুষের চলাচলের জন্য। তাই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সড়ক মুক্ত রাখার কাজে দৃঢ়ভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। এই কাজে জামায়াত সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করবে বলে তিনি জানান।
বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, শহরে সমস্যা যদি তুলনামূলকভাবে কমও থাকে, গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখনও বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। এটি একদিনে সমাধান সম্ভব নয়; সরকার যদি আন্তরিকভাবে কাজ করে এবং রাজনৈতিক দলগুলো সহযোগিতা করে, তবে পরিস্থিতি দ্রুত ভালো হবে বলে তার আশা।
ভালো দেশ গড়তে সরকার-বিরোধীসহ সবার সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি—এমন বার্তাও দেন তিনি। তিনি বলেন, একে অপরকে সহযোগিতা করলে দেশের উন্নতি ত্বরান্বিত হবে।
নিজের রাজনৈতিক কর্তব্য নিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার কারণে সারাদেশে সব জায়গায় প্রতিদিন পৌঁছানো সম্ভব হয় না, তবে সুযোগ পেলেই তিনি মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাদের সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শুনেন।
সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিনি পরিবারকেন্দ্রিক দায়িত্বও আলাদাভাবে উল্লেখ করেন। পুলিশের উপর একচেটিয়া নির্ভরশীলতা নয়—অভিভাবকদেরও কিশোর অপরাধ, মাদকসহ সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে। তাঁর ভাষ্য, সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে—এ ধরনের বিষয়েই পরিবারের নজর থাকা দরকার।
পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একা সব সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে না; তাই সচেতন সমাজ গড়ার উদ্যোগে নাগরিকরাও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।
এর আগে ঢাকা-১৫ আসনের জনদুঃখ নিরসনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান (মিল্টন) উপস্থিত ছিলেন।