মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় শংকা ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে। শুক্রবার সকালে রাখাইনের দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর মংডু ও বুথিডং-এ বিমান হামলার শব্দ না থাকলেও, গত দু’দিনের ধারাবাহিক বিস্ফোরণের প্রভাব এখনও দৃশ্যমান। ফলে, সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষগুলো আতঙ্কে রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয়, তাহলে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের দিকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বাড়তে পারে। সমস্ত সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী নিয়ন্ত্রণাধীন মংডু, বুথিডং, কিয়াকতাও সহ বেশ কিছু এলাকায় বারবার বিমান হামলার ঘটনা ঘটছে। এই হামলার লক্ষ্য শুধু আরাকান আর্মির অবস্থান নয়, বরং বেসামরিক প্রশাসন ও সামাজিক ব্যবস্থাগুলোকেও দুর্বল করে দেওয়া। এর ফলে, রোহিঙ্গা ছাড়াও রাখাইন জনগোষ্ঠীর অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকার বাইরে চলে যাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সীমান্তের ওপারে এই পরিস্থিতিতে টেকনাফের বাসিন্দারা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। ভারী বোমা বিস্ফোরণের শব্দ যেন নতুন করে তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, যদি সংঘাত মারাত্মক আকার ধারণ করে, তাহলে আবারও বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। কক্সবাজারের আশ্রয়Shিবিরে থাকা রোহিঙ্গারাও নিয়মিত মিয়ানমারে চলমান পরিস্থিতির খবর রাখছেন। তাদের অনেকের স্বজন এখনো রাখাইনে অবস্থান করছেন। ক্যাম্পে থাকা একদল রোহিঙ্গা জানিয়েছেন, অনেক রোহিঙ্গাই দীর্ঘদিন ধরে দেশ ছাড়া ওয়ার্কের অপেক্ষায় আছেন। পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয়, তাহলে তারা বাংলাদেশে ঢোকার জন্য প্রস্তুতি নেবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম জানান, চলমান সংঘাতের ফলে অনেক রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। তাই সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কার্যকরভাবে সিল করে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অন্যদিকে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বলছে, সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। উল্লেখ্য, গত দুই বছরে প্রায় দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, এবং যদি সংঘাত আরও তীব্র হয়, তবে সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছে।

