প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে উল্লেখ করেন যে, মেয়েদের স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি বিনামূল্যে করা হবে। পাশাপাশি, ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষাথীদের বৃত্তি দেয়া হবে। এর মাধ্যমে দেশের নারী শিক্ষার গতি আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, খালেদা জিয়ার সরকার যখন উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে করেছিল, তখন আমাদের পরিকল্পনা এখন অনার্স পর্যায়েও এই সুবিধা দিতে। তিনি বলেন, ‘আজকের এই অধিবেশনে উপস্থিত অনেক নারী শিক্ষার্থী আমাদের সাথে আছেন। তারা সরাসরি এই পক্ষে দণ্ডে দণ্ডে শুনছেন। আমরা অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার পাশাপাশি যারা ভাল ফল করবে, তাদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থাও করবো।’ বুধবার বিকেলেএক প্রশ্নের জবাবে, প্রধানমন্ত্রী জানান, সারাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের সম্মানি পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাবে। তিনি উল্লেখ করেন, অপটু সময়ে নির্মিত হলেও স্বৈরাচারী সরকারের সময় শিক্ষকদের মানবসম্পদ উন্নয়নের কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমাদের লক্ষ্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সম্মাননা উভয় বাড়ানো, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে অবদান রাখতে পারেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের সেকেন্ডারি ও প্রাইমারি পর্যায়ে প্রশিক্ষন দেওয়া ও সম্মাননা বৃদ্ধি পরিকল্পনা আমাদের সরকারের লক্ষ্য। এটা না হলে তারা তাদের সময় ও মেধা শিক্ষার্থীদের পেছনে ব্যয় করতে পারবেন না।’ প্রাথমিকে শিক্ষকদের সম্মানি বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি, যাতে তারা আরও ভাল মানের শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন, ‘প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা অনেক সময় দ্রুত ক্লাস শেষ করে অন্য দায়িত্বে চলে যান, যার ফলে শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন হয়। আমাদের সে বিষয়েও নজর দিতে হবে।’ তিনি আরো জানান, চলতি বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল তিনটায় অধিবেশন শুরু হয়, যেখানে প্রথম আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর অংশ চলে। এই সময়ের মধ্যে তিনি চার জন সংসদ সদস্যের নির্দিষ্ট প্রশ্ন ও অন্যান্য সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারাদেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে পর্যায়ক্রমে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।’ সংসদ সদস্য শাম্মী আখতারের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, করুন পর্যায় থেকে ফাইভ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রি-মারী স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়া হবে। তিনি আশ্বাস দেন, দেশের সমস্ত প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সব এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালানো হবে। চীনে কাঁঠাল রপ্তানি বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, চীন সফরকালে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চীনা মানুষ কাঁঠাল খুব পছন্দ করে, ফলে এটি রপ্তানি করে বড় আয় উপার্জন সম্ভব। তিনি আরো বলেন, মালয়েশিয়ায় ডুরিয়ানের ব্যাপক রপ্তানি দেখে অবাক হন, যেখানে প্রতি বছর এক বিলিয়ন ডলার ডورিয়ান রপ্তানি হয়। বাংলাদেশ যদি এই ধরনের ফলের রপ্তানি করে, তবে এটি একটি বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের চ্যানেল হবে। কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে, প্রধানমন্ত্রী জানান, পেঁয়াজ ও রসুনের অপচয় রোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে, ৩ হাজার ৫০০টি এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ ও আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হয়েছে, যার প্রতিটির ধারণক্ষমতা ১০-১২ টন। এসব সংরক্ষণাগার কৃষকদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর، ফলে পেঁয়াজ ও রসুন দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ সম্ভব হয়। এর পাশাপাশি, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালু হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে, পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ১৯ হাজার কৃষকের মাঝে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হবে। ভবিষ্যতে, আরও ৮ হাজার মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে অপচয় কমিয়ে, কৃষকরা মৌসুম শেষে ন্যায্যমূল্যে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারেন এবং বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হয়।

