গত কয়েক দিন ধরে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা বেড়ে গেছে। দেশের ৭ জেলা এ সময় বন্যা পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে পড়ে, যেখানে নদি-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলি প্লাবিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরও ১০ জেলা নতুন করে বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ। শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরের সুরমা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংস নদীর অববাহিকায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলাগুলোর নিকটবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে উত্তরাঞ্চলের তিস্তাসহ ধরলা ও দুধকুমার নদীর অববাহিকায় নদী সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও এই ঝুঁকি রয়েছে।
তদ্ব্যতীত, চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে থাকলেও, নিম্নাঞ্চলে এখনও পানির মাত্রা উচ্চ রয়েছে। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু, ধলাই, খোয়াই নদীগুলোর পানি ধীরে ধীরে কমছে এবং তার ফলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে বর্তমানে চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেট এবং সুনামগঞ্জ জেলাগুলো বন্যাকবলিত অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি ফেনী, খাগড়াছড়ি, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলা বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশেষ করে কক্সবাজারে এখনও অনেক এলাকা পানির নিচে। পাহাড়ি ঢল, ভারী বর্ষণ, এবং পাহাড় ধসের ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখনও পানির নিচে ডুবে রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় তিন লাখ মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। গত সাত দিনে পানিতে ডুবে এবং পাহাড় ধসের ঘটনায় অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিভিন্ন এলাকায় পানি কিছুটা কমলেও অনেক গ্রাম এখনও প্লাবিত। সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, কৃষি ও সাধারণ জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত।
একটি নৌকাডুবিতে ১২ বছর বয়সী হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা মারা গেছেন, যখন তিনি বসুবাড়ি আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার সময় নৌকাডুবির ঘটনায় পতিত হন। এর আগে অন্যান্য দুর্ঘটনায় শিশুসহ মোট বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
জেলার ১০ জনের বেশি উপজেলা ৩৫টি গ্রামসহ অন্তত ১৫০টি গ্রাম বন্যায় প্রভাবিত হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হলো চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলা, যেখানে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী। অন্যদিকে, পানির উচ্চতা ধীরগতিতে কমতে থাকলেও পানি নিষ্কাশনের কাজে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডুবে যাওয়া অন্য অঞ্চলে জরুরি ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। এক হাজারের বেশি মানুষ এখনো আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও বাঁধ সংস্কার ও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয় প্রশাসন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অবশ্য, বৃষ্টিপাতের তীব্রতা অব্যাহত থাকায় আগামী দুই দিন আরও ভারী বর্ষণ ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সতর্কতা জারি করেছে। এর ফলে নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে উপকূলীয় এলাকা ও পাহাড়ি অঞ্চলগুলো।

