মাদক সেবনের জন্য টাকা না পেয়ে গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাক শ্রমিক নাসিমা আক্তারকে তার স্বামী ছায়েদুল ইসলাম দুই সন্তানের সামনেই নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। এই ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে, যা দেখে দুই শিশু সন্তান আতঙ্কে আহত হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই র্যাব-১ অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করে।
র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন র্যাব ১- এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেয়ামুল হালিম চৌধুরী। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন দুই শিশু সন্তান, যারা ঘটনার বিষয়ে কিছুই বুঝতে পারেনি।
অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, ছায়িদুল ইসলাম এবং নাসিমা আক্তার তাদের ভাড়া বাসায় থাকতেন। নাসিমা একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন। আর ছায়িদুল ছিলেন একজন মাদকসেবী, যার কারণে তিনি সংসারে প্রায় কিছুই করতে পারতেন না। তবে মাদকের জন্য প্রায়ই তার স্ত্রীর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত।
ঘটনার রাতে, নাসিমা বেতন নিয়ে বাসায় ফেরার সময় ছায়িদুল তিন হাজার টাকা দাবি করেন। তবে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, ছায়িদুল ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন। রক্তক্ষরণে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পরে, তিনি পালিয়ে যান। পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় তাকে গ্রেফতার করে।
র্যাব জানায়, হত্যার কারণ প্রাথমিকভাবে מাদকের টাকা নিয়ে ঝগড়া ও মানসিক চাপ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পূর্ববর্তী পারিবারিক অশান্তি, মায়ের অকাল মৃত্যু ও বাবার গ্রেফতারে এই দুই শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। বর্তমানে তাদের জন্য রয়েছে মামার হেফাজত। এই ঘটনাটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে যে সমাজে মাদক ও পরিবারে অস্থিরতা কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

