ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় অভিযোগ গঠনের জন্য নতুন দিন ধার্য করেছেন। এর আগে, জয় বাংলা ব্রিগেডের জুম মিটিং ও অনলাইন ষড়যন্ত্রের অভিযোগে শেখ হাসিনা সহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। এই মামলায় শেখ হাসিনা ও অনেকে বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে দেশবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। আদালত সূত্রের খবর, এই মামলার আসামিরা কারাগারে থাকাকালীন আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির সময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং অভিযুক্তরা কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। কিছু আসামির পক্ষের আইনজীবী অব্যাহতির জন্য আবেদন করেন, অন্যরা সময়ের জন্য আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, এই মামলার বিশদ তদন্ত গত বছর আগস্টে সম্পন্ন হয়, যেখানে শেখ হাসিনা ছাড়াও বেশ কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বনামখ্যাত নেতার নাম উঠে আসে। মামলার মূল অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে গৃহযুদ্ধের ষড়যন্ত্র, সরকারকে উৎখাত করার পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্রদ্রোহের মতো জটিল অপরাধ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের এক অনলাইন সভায় “জয় বাংলা ব্রিগেড” গঠন করে দেশ-বিদেশের অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী করার জন্য তারা প্রস্তুত। এছাড়া, তাদের মধ্যে এক অংশ গোপন সংগঠন ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টাকারী বলে সন্দেহে পরিণত হয়। এই সকল কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে ২০২৫ সালের মার্চে শেখ হাসিনা সহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। তদন্ত শেষে, মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। উল্লেখ্য, এই মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট নেতারা বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও রয়েছেন। বিষয়টি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

