ঢাকার প্রাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দত্তের বিরুদ্ধে টাকার জন্য স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর স্ত্রী শিউলি রানী রায় (৩২) বর্তমানে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার বিকালে হাসপাতালে এসে শিউলি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের কাছে জানান।
শিউলি রায় কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার নিরোধ কুমার রায়ের মেয়ে। স্বামী বিদ্যুৎ কুমার দত্ত (৪০), কুষ্টিয়ার আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সাত বছর আগে হয়, এরপর থেকে তারা রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোডে বাস করছেন।
শিউলি জানান, বিয়ের পর থেকেই কিছু ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তাঁর শাশুড়ি ও ননদরা তাঁকে দোষারোপ করতেন। এছাড়াও, স্বামীর বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা এবং এর জন্য অর্থের চাহিদা নিয়ে পারিবারিক অশান্তি লেগে থাকতো। স্বামী বিদেশ যেতে চাইলে টাকা চাইতেন, যাতে দিতে না পারায় প্রায়ই ঝগড়া হতো।
১২ জুলাই রাতে বিষয়টি চরমে পৌঁছায়। ওই রাতে স্বামী রুটি বেলার বেলন দিয়ে তাঁর উপরে হামলা করেন। এতে মাথা, মুখ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পায়। ডান চোখেও আঘাত লাগে। মারধরের পর বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তিনি দ্রুত মোটরসাইকেলে করে রওনা হন। কিন্তু পথিমধ্যে সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন গলফ ক্লাবের কাছে রাস্তার উপর পড়ে যান এবং অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, আহত অবস্থায় শিউলি পড়ে গেলে তাঁর চেতনা হারায়। পরে পেছন থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের চালক তাঁকে দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এরপর স্বামীকেও হাসপাতালে আনা হয়, কিন্তু তিনি ফের চলে যান। শিউলির চেতনা ফিরে এলেও তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে পারেন চিকিৎসকরা।
শিউলির পরিবারের দাবি, শ্বশুরের কাছ থেকে অর্থের জন্য চাপ দিয়ে টাকা নেন এবং এই চাপের কারণে পারিবারিক কলহ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। শিউলির ভাই শুভ রায় বলেন, “হত্যার উদ্দেশ্যেই আমার বোনকে মারধর করে তাকে রাস্তার ওপর ফেলে দেওয়া হয়, যাতে কেউ দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিতে পারে।”
শুভ রায় আরও জানান, তাঁরা আশুলিয়া থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে মামলার জন্য বিস্তারিত লিখিত বর্ণনা প্রয়োজন বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও স্বামী বিদ্যুৎ দত্তের খোঁজ পাওয়া যায়নি। আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

