স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। বুধবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নিশ্চিত করা হবে কি না, এই বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রুলের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন, অন্য দেশের প্রয়োগ ও অন্যান্য আইনি রুলিং বা জাজমেন্ট পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের সদ্য সমাপ্ত ১২তম সভায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন আইনের (সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইন) উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ও সংশোধনের সুপারিশ করা হয়। তবে আইন সংশোধনের জন্য নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ থাকবে না বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি। সংশোধন আনা হলে তার তারিখও উল্লেখ থাকবে। যদিও বর্তমানে বিদ্যমান আইন যথেষ্ট শক্তিশালী এবং তা দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনের ক্ষেত্রেও মামলা ও আপিলের কনফিউশন এড়াতে কিছু নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসও, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকদের নিজ নিজ পদে থেকেই নির্বাচন করতে হবে, এ বিষয়টিও আরও স্পষ্ট করা হবে।
এছাড়া, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আগামী অক্টোবরের মধ্যে প্রথম ধাপের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর জন্য আগস্টের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। বিগত নির্বাচনের মতো এবারও একাধিক ধাপে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে কোন পদে নির্বাচন হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট করে কোন পদের নাম বলা না হলেও, যেখানে জনপ্রতিনিধি নেই বা মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নিরাপদে ও আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ确保 করে নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সরকারের আইনে সশস্ত্র বাহিনী যোগ করার সুপারিশের বিষয়ে তিনি জানান, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন আন্তর্জাতিক ও জাতীয়ভাবে সফল হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে, প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে এই নির্বাচনের মান উন্নত করা হবে। তাছাড়া, বিগত নির্বাচনের মতো সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি বজায় রাখতে ও সহিংসতা মুক্ত নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

