অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন তার পদ থেকে পদত্যাগ ঘোষণা করেছেন। তিনি ইতিমধ্যে তার পরিবারের সাথে মহামান্য বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী রোববার তিনি সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন। এই বিষয়টি ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছেন তার সংস্কৃতি, যারা বলছেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি সেই দিন গুলশানে নিজস্ব বাসায় বসবাস শুরু করবেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, মোঃ সাহাবুদ্দিন তার পদ থেকে অবসরে যাওয়ার জন্য তার পদ থেকে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। এর ফলে তিনি আর রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতাগুলি পাবেন না। তবে, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আইন অনুযায়ী অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষ বা পদত্যাগ করলে তিনি অবসরভাতা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য অযোগ্য হন। মোঃ সাহাবুদ্দিন, যারা ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন, সেই থেকে তিনি মোট দুই বছরের বেশি সময় এই দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই সময়কালের বিবেচনায়, তিনি এই আইনের অধীনে জীবনভর অবসরভাতা পাওয়ার অধিকারী।
অর্থাৎ, অন্তত ছয় মাস দায়িত্ব পালন করার পর তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে, তিনি এই সুবিধাগুলি পেতে অযোগ্য নন। তবে, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল, নিরাপত্তা, সরকারি গাড়ি বা এসকর্ট সুবিধা বিষয়গুলো আইন বা সরকারের সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে, তা সরাসরি এই আইনে উল্লেখ করা হয়নি।
সংবিধানের ৪৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কার্যরত রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও প্রাধান্য উল্লেখ করা হলেও, পদত্যাগের পর তিনি আর সেই সাংবিধানিক প্রাধান্য পাবেন না। এমতাবস্থায়, তিনি একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে যাবতীয় সুবিধা ও প্রোটোকল পাবেন, তবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে তাঁর এখন আলাদা।

