সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিও নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি ও ট্রলের পরিবেশ। এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়েছে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষিকা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। সোমবার ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি এই ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যেই পুলিশ বিভিন্ন ট্রলকারী পেজ শনাক্তের চেষ্টা করছে। যদি শিক্ষিকা বিভ্রান্ত বা বিব্রতবোধ করেন বা মনে করেন তার মানহানি হয়েছে, তবে বিষয়টি যথাযথভাবে দেখা হবে এবং যথোচিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে, গত শুক্রবার এই শিক্ষিকা জিডি করেন।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার ফেঞ্চুগঞ্জের পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রানী পাল একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের জনপ্রিয় গান ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে’ পরিবেশনের সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হাঁটছেন। এই ভিডিও প্রকাশের পরে শুরু হয় সমালোচনা ও ট্রলের ঝড়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মানুষ এই ভিডিওকে নেতিবাচকভাবে দেখে তাদের আপত্তি জানান।
তবে এই ঘটনার পর শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সাধারণ মানুষ তাঁদের সহানুভূতি প্রকাশ করেন। অনেক শিক্ষকরাই একই ধরনের সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিগত আনন্দের মুহূর্ত ভাগ করে নেন। শিক্ষক দীপা মণ্ডল বলেন, শিক্ষকদের নাচ, গান ও অভিনয় শেখানো হয় যাতে তারা নিজেদের দক্ষতা বিকাশ করতে পারেন। কিন্তু একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত মুহূর্ত যদি নেতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হয়, তবে তা যথাযথ নয়। তিনি আরও বলেন, এক শিক্ষকের সাধারণ হাঁটার ভিডিওকেও অশ্লীলতার সঙ্গে যুক্ত করে সমালোচনা করা হয়, যা অন্যায়।
বিউটি রানী পাল অভিযোগ করেন, এই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘প্রিয় ফেঞ্চুগঞ্জ’ নামে একটি পেজ থেকে আক্রমণ শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন পেজ থেকে তাকে ট্রল করা হয়। অভিযোগে তিনি বলেন, আসিফ ইকবাল হিরণ নামের একটি প্রবাসী তরুণ এই নেতিবাচক প্রচার শুরু করে। এই ঘটনায় তিনি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান দাবি করেন।

