সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা কারখানায় ঘটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন ১৬ বাংলাদেশি। এই হতাহতের ঘটনায় তাঁদের পরিচয় বিস্তারিতভাবে শনাক্ত করতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষা চালানো হচ্ছে, প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষাও করা হবে। রোববার বিকাল ২টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে ১৬টি লাশ উদ্ধার করেন। রাত ১১টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়। প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
দূতাবাস জানিয়েছে, কারখানার একমাত্র জীবিত কর্মী হাবিবুর রহমান জানান, তিনি আনুমানিক দুপুর ১:৩০ মিনিটে চুল কাটানোর জন্য সেলুনে যান। ফিরে আসার পর তিনি দেখতে পান, কারখানায় আগুন জ্বলছে। তার ভাষ্যমতে, এই কারখানায় মোট ১৭ জন বাংলাদেশি কর্মী কাজ করতেন। অগ্নিকাণ্ডে তার মধ্যে ১৬ জনই ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন।
স্থানীয় সিভিল ডিফেন্সের সূত্রে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে আটজন সরাসরি আগুনে পুড়ে মারা যান, আর আটজন কালো ধোঁয়ায় শ্বাসবন্ধ হয়ে মারা গেছেন। নিহতরা কারখানা অ্যাকাউন্টে বসবাস করতেন।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পাসপোর্ট ও ইকামা পুড়ে গেছে। এ কারণে তাদের পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করতে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও সৌদি কর্তৃপক্ষ নিবিড়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
শিফা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ফয়সাল আলউতাইবি বলেন, নিহতদের ডকুমেন্ট না থাকায় প্রথমে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলবে। যদি এটা সম্ভব না হয়, তাহলে ডিএনএ পরীক্ষার দরকার হবে।
পরিচয়ের সত্যতা পাওয়ার পর, সৌদি কর্তৃপক্ষ মরদেহের জন্য মৃত্যুসনদ ইস্যু করবে। এরপর মরদেহগুলো বা বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে নিহতের পরিবারের মতামত অনুযায়ী। বাংলাদেশ দূতাবাস সব ধরনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে চলেছে।

