জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ৭.৬২ এমএম গুলি ব্যবহার করেছিলেন বলে প্রাথমিক বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি বলেন, সারা দেশে পুলিশের ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও তার পরিমাণের একটি প্রতিবেদন তারা পেয়েছেন, যা ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে।
প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, ওই সময় পুলিশ সারাদেশে মোট ৩ লাখ ৫ হাজার ৩১১টি গুলি চালিয়েছে, যার বড় অংশ ছিল ৭.৬২ এমএম গোলাবারুদ। তিনি আরও বললেন, পুলিশ বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৪০টি স্থান থেকে এই অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করে। ঢাকায় অবশ্য পুলিশ ৯৫ হাজারের বেশি গুলি ছুড়েছে।
প্রসিকিউটর তাদের বক্তব্যে নিশ্চিত করেছেন যে, এই ৭.৬২ এমএম গুলি সাধারণত সেনাবাহিনী ব্যবহার করে, তবে এটি আন্দোলনকারীদের ওপর অপ্রয়োজনে পুলিশ ব্যবহার করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন থেকেও জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ মানুষের শরীরে ব্যাপক সংখ্যক এই গোলাবারুদ পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, আন্দোলনের সময় পুলিশ ভয়ঙ্কর পরিমাণে এই গোলাবারুদ ব্যবহার করেছিল।
প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ছাত্রলীগ নিষেধ সত্ত্বে থাকলেও তারা বাধা দেয়নি। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, ‘পেটাও না কেন ওদের, মারও না কেন।’ এর ফলশ্রুতিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।
গাজী মোনাওয়ার জানান, ওবায়দুল কাদেরের উসকানিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যাপক হামলা চালায় ছাত্রলীগ। আহত শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তাঁদের মারধরও করে এই ছাত্র সংগঠন। নারী শিক্ষার্থীরাও এই হামলার শিকার হয়।
এই মামলার অন্য আসামিরা সবাই বর্তমানে কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা, যার মধ্যে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান আছেন, লক্ষ্য করা যায় যে, তারা পলাতক আছেন।

