সাবেক কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সামাজিক উদ্যোক্তা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের তদন্ত ও তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার জন্য একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে স্বার্থের সংঘাত, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নানা দুর্নীতির তারিখ অন্তর্ভুক্ত। নোটিশটিতে বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে ড. ইউনূসের দেশ ছেড়ে পালানোর প্রবণতা রয়েছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।
রোববার (১৬ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদের পক্ষে ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম এই নোটিশটি রেজিস্টার্ড ডাক ও কুরিয়ার মাধ্যমে পাঠিয়েছেন। এটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, পুলিশের আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার ও ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ১০ জন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে ড. ইউনূসের ‘দেশ ছেড়ে পালানোর প্রবণতা’ দেখা দিতে পারে, যা সমগ্র তদন্তকে ব্যাহত করতে পারে। তাই, তাকে ‘এক্সিট কন্ট্রোলে’ রাখতে সম্প্রতি এই নোটিশের মাধ্যমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর আগে, আদালত থেকে রুল ইস্যু করার মাধ্যমে তার ব্যাপারে নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে হামের টিকা না আসায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা, ইপিআই প্রোগ্রামে গণ্ডগোল, উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি, এবং ব্যাংকিং দুর্নীতির মতো গুরুতর বিষয়। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নোটিশে ২১টি স্পষ্ট অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মামলা প্রত্যাহার, গ্রামীণ ব্যাংককে বিশেষ সুবিধা দেওয়া, সরকারি শেয়ার কমানো এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে গ্রামীণ ট্রাস্টে অর্থ স্থানান্তর। এ ছাড়াও, ড. ইউনূসের আমলের বিভিন্ন অস্বচ্ছ কর্মকাণ্ড ও সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন আইনজীবীরা।
বিশেষ করে তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের ক্ষতি হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছাড়িয়ে গেছে। সমাজ ও অর্থনৈতিক অন্যান্য বিষয়ে তার সুবিধাজনক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এ পরিস্থিতিতে তারা একটি ন্যায্য ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান চান, যাতে ড. ইউনূস দেশ ছেড়ে যেতে না পারেন। তিনি পালানোর প্রবণতা দেখাচ্ছেন বলে মন্তব্য করা হয়েছে। তাদের দাবি, আগামী সাত দিনের মধ্যে যদি তার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না হয় বা অভিযোগের উপর যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে হাইকোর্টে রিট দাখিল করা হবে।
এর আগে, ‘শিশু স্বাস্থ্য ট্র্যাজেডি’ ও হামের টিকা সংক্রান্ত একটি তদন্তের জন্য হাইকোর্টে রিট এবং রুল জারি হয়েছিল। বর্তমান এই দাবি ও তদন্তের মাধ্যমে আরও বৃহত্তর তদন্তের পথ শুরুর লক্ষ্য রয়েছে।