ইট-লাঠির প্রতিরোধের জবাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে গুলি চালিয়ে জনসাধারণের মগজ উড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই আত্মরক্ষার পর্যায়ে পড়ে না বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সোমবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এ ব্যাপারে বলেন।
তামিমের বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়, এই অবস্থায় আসামিদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আসামিরা দাবি করেছেন যে, আন্দোলন ঠেকাতে গিয়ে তারা প্রোপোর্শনেট বা আনুপাতিক বলপ্রয়োগ ব্যবহার করেছেন। তবে তারা ভুলভাবে এই দাবি করছেন, কারণ অধিকাংশ আন্দোলনকারীর হাতে ছিল ইট, লাঠি। সেখানে লেথাল ওয়েপন বা মারণাস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালানো—যা মগজ উড়িয়ে দেয়—কখনোই প্রোপোরশনেট বা যৌক্তিক বলে বিবেচিত হতে পারে না। এ ধরনের আঘাত কোনোভাবেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে করা যায় না।
তামিম আরও বলেন, পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হলে শুধু ঘটনাস্থল দেখার চেয়ে সার্বিক পরিস্থিতি ও নির্দেশনা বোঝা জরুরি। যেমন, তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কী নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা কীভাবে আধিকারিক ও নেতারা মাঠে বাস্তবায়ন করেছেন—এসব বিষয়গুলো প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ।
আইনী ব্যাখ্যায় তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩-এর ২ ধারায় বিভিন্ন অপরাধের ব্যাপারে বলা হয়েছে। যেমন, ‘এ’ উপধারায় হত্যার কথা উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, ‘জি’ ও ‘এইচ’ উপধারায় প্ররোচনা, চেষ্টা, সহায়তা, ব্যর্থতা ও অপরাধপ্রতিরোধে ব্যর্থতার বিষয়গুলো আলোচিত। অর্থাৎ, হত্যার পাশাপাশি হত্যায় সহায়তা, নির্দেশনা, উসকানি দেওয়া বা ষড়যন্ত্র করা—এসব অপরাধের শাস্তিও সমান, বলেও তিনি জানিয়েছেন।
পাশাপাশি, তিনি জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ বা সমন্বিত অপরাধের বিষয়ে ব্যাখ্যা করেন, যেখানে তিনটি মূল জিনিস জরুরি। প্রথমত, একের অধিক ব্যক্তির অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকা। দ্বিতীয়ত, সকলের উদ্দেশ্য এক, তা হলো আন্দোলন দমন। তৃতীয়ত, যদি মাঠে অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহলে প্রত্যেককে অপরাধী ধরে নেওয়া হয়। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি বুসনিয়ার একটি গ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে এই তত্ত্ব প্রমাণিত হয়েছে।

