বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণের খবরের সাথে সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। গত ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ভোটে বিজয়ী হওয়ার পরে ঢাকার বিভিন্ন দূতাবাস ও বিশ্বনেতারা এই বার্তা পাঠিয়ে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
চীন, যেহেতু এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দেশ, তারা প্রথমেই উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে। ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস ও বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক যৌথ বার্তায় উল্লেখ করে, বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং ঐতিহাসিক। নতুন রাষ্ট্রপতির দূরদর্শী নেতৃত্বে এই সম্পর্ক আরও গভীর ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হবে বলে তারা আশাবাদ প্রকাশ করে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য, যা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পশ্চিমা অংশীদার, নতুন রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নে যুক্তরাজ্য সবসময় পাশে থাকবে। তারা জ্বালানি, বাণিজ্য ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ভারতও তাদের বিশেষ শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এক বার্তা পাঠিয়েছেন। ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের ফেসবুকে প্রকাশিত এই বার্তায় উল্লেখ করেন, দুই দেশের সম্পর্ক অদ্বিতীয়, যা ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বন্ধুত্বের বন্ধনে গাঁথা। ভারতীয় রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি দুই দেশের জ্বালানি, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতে উন্নয়নের কথা স্মরণ করে বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক সরকারি বিবৃতিতে তিনি বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও সফলতা কামনা করেন এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা বাড়াতে পাকিস্তানে আসার আমন্ত্রণও জানান।
ফ্রান্স, ইউরোপের অন্যতম мощশালী দেশ, বাংলাদেশে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। ঢাকায় অবস্থানরত ফরাসী দূতাবাস তাদের বার্তায় তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার প্রশংসা করে, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবাধিকার রক্ষায় তার অবদানের coli তুলে ধরেছে।
অপর দিকে, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানিও পৃথক বিবৃতিতে নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত সুইজারল্যান্ড দূতাবাস তাদের সম্পর্কের স্থায়িত্ব ও উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছে। জার্মান দূতাবাস উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের রপ্তানি, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক আরও জোরদার হবে নতুন সরকারের অধীনে।
প্রতিবেশী দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পোডেলও এই শুভেচ্ছা জানিয়ে, সার্কভুক্ত দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বনেতাদের এই আন্তরিক ও দ্রুত বার্তা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদার প্রমাণ। এটি দেশের গ্লোবাল অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাড়ন্ত গুরুত্বকেও নির্দেশ করে। নতুন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে বাংলাদেশ পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী ও সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণের।

