রংপুর নগরীর একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের চারজন সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের জাল উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ওই পরিবারের মরদেহগুলো শনিবার রাত ১১টার দিকে বাসার ভেতর থেকে পাওয়া যায়, যা এলাকায় ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি করে।
নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় এই ঘটনার সময় নিহতরা হলেন—প্রবীণ শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), কন্যা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫), এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১২)। পুলিশ সূত্র মতে, বাড়িটি বেশ কয়েকদিন ধরে তালাবদ্ধ ছিল এবং মূলত বৃহস্পতিবারের পর থেকে পরিবারটির কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
শনিবার রাতে স্থানীয়দের কাছে দুর্গন্ধের খবর পেয়ে পুলিশ বাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। দোতলার ছাদে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায়, আর স্ত্রি-সন্তানের মরদেহগুলো সিঁড়ির পাশে চিলেকোঠায় ও খাটের নিচে পড়ে ছিল।
প্রতিবেশী এবং পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মৃতদের সঙ্গে সর্বশেষ কথা ছিল বৃহস্পতিবার রাতের দিকে। এরপরই সন্ধান চেয়ে তারা শনিবার রাতে বাড়িতে যান। পুলিশ বলছে, কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন পালিয়ে থানার পাশের দখীগঞ্জ শ্মশানে লুকিয়ে থাকছিলেন। পরে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের মূল অনুসন্ধানে জানা যায়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে, যার মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা অন্য কোনও প্রতিহিংসার ঘটনা থাকতে পারে। তবে পুলিশ আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বড় বোন পূজা চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তারা শেষবার বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর শনিবার রাত ৯টার দিকে তারা বাড়িতে যান এবং দেখেন দরজা তালাবদ্ধ। ৯৯৯ এ কল করে পুলিশকে জানালে তদন্ত শুরু হয়।
অবসরের পর গণপতি চক্রবর্তী রংপুর সমবায় মার্কেটে একটি হোমিওপ্যাথি দোকান চালাতে শুরু করেন। তার মেয়ে বর্তমানে কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজি বিভাগে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন, আর ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।
এই হত্যাকাণ্ডের গতিপ্রকৃতি ও উদ্দেশ্য অনুসন্ধানে পুলিশ সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সন্দেহভাজনরা দ্রুত শনাক্ত হতে পারে।

