চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির 끝ে বাংলাদেশে আবারো ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। সরকারের প্রথম ১৮০ দিন বা ছয় মাসের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি অনলাইন পরিসরেও বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ও গুজব ছড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এসব অপতথ্য মূলত সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য প্রচারিত হয়েছে, পাশাপাশি পুরোনো ছবি ও ভিডিওকে নতুন প্রেক্ষাপটের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বা সম্পাদিত কনটেন্টও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইস্যুতে ব্যবহার হয়েছে।
রিউমর স্ক্যানার নামক অনলাইন ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম ছয় মাসে মোট ৪৬৪টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে—তার মধ্যে ৯১% অপ্রিয় ও নেতিবাচক প্রচারণার জন্য। এই সময়ে, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার হয়েছে। এসব অপতথ্য এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্টগুলো মূলত সরকারের বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করার লক্ষ্যেই ছড়ানো হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এরপর, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আবারো সক্রিয় করে। নতুন সরকার শপথ নেয় ১৭ ফেব্রুয়ারি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গুজব ও অপতথ্যের প্রচার খুব সাধারণ ঘটনা। বিশেষ করে যখন কোনও সরকার ক্ষমতায় থাকে, তখন সরকারের কার্যক্রম ও সদস্যদের বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা আরও বাড়ে। বিএনপি সরকারের সময় এই প্রবণতা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, যেখানে বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অসংখ্য ভুয়া প্রচার ছড়িয়েছে। এআই-সক্ষম কনটেন্ট, সার্কাজম পেজের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং নানা কৌশলে ফেক ছবি ও ভিডিও তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ছড়ানো অপতথ্যগুলোতে সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিষয়গুলো আলোচনা শুরু হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে কিছু সার্কাজম পেজ থেকে ভুয়া মন্তব্য বা ব্যাপক বিভ্রান্তিকর বক্তব্য তৈরি করা হয়। এই কনটেন্টগুলো পরে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কখনো কখনো যাচাই-বাছাই না করেই এই কথাগুলো গণমাধ্যম বা সমাজের আলোচনায় স্থান পায়।
এছাড়াও, এআই-নির্মিত ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণাও লক্ষণীয়। পুরোনো ভিডিও, ভুয়া ছবি ও প্রমাণহীন তথ্যের সমন্বয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে, যা মূলত অপতথ্য বা গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্যে। তরুণ সমাজ ও সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়াতে এই অপপ্রচারগুলো চালানো হয়।
গত ছয় মাসে, রিউমর স্ক্যানার এই ধরনের অন্তত ১০টি অপতথ্য ক্যাম্পেইন শনাক্ত করেছে, যার বেশিরভাগের পেছনের মূল হোতাদেরও চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। এই অপপ্রচারগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনমানসে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে তাদের লক্ষ্য ছিল।

