গত ছয় মাসে রাষ্ট্রে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকে সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনলাইমাধ্যমে নানা ধরনের অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা বেশ প্রত্যক্ষভাবে দেখা গেছে। এই অপতথ্যগুলোর মধ্যে অধিকাংশই নেতিবাচক প্রভাব বিস্তারকারী। বিশেষ করে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে নানা রকম মানহানিকর প্রচারণা এখন নিয়মিত ঘটনা হিসেবে পরিণত হয়েছে। অনলাইন ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার তাদের বিশ্লেষণে জানায়, সরকারের প্রথম ছয় মাসে অপতথ্য ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বিএনপি নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সময়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১৫৭টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে, যার প্রায় ৭৮ শতাংশই ছিল নেতিবাচক। এই ধরনের অপতথ্য তৈরিতে একাধিক নতুন ও প্রচলিত কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার, ভুয়া ছবি-ভিডিও, পুরোনো কনটেন্টের পুনর্ব্যবহার ইত্যাদি।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে মোট ৪৬৪টি অপতথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এগুলোর মধ্যে ৯১ শতাংশই ছিল নেতিবাচক বা বিরোধী প্রস্তাবনা প্রচারের জন্য। মূলত এসব অপপ্রচার সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। তারেক রহমানসহ অন্যান্য নেতাদের চরিত্রনির্মাণে মূলত এই অপপ্রচারের ব্যবহারে বৈচিত্র্য দেখা যায়। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ৩৪টি অপতথ্য সার্কাজম পেজের পোস্টের মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। এরপর আরও রয়েছে ভুয়া বক্তব্য (৩০টি), গণমাধ্যমের মতো করে তৈরি ভুয়া ফটোকার্ড (২২টি) এবং এআই-নির্মিত ১৯টি কনটেন্ট। পুরোনো ছবি-ভিডিও এবং সম্পাদিত কনটেন্টও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা খুবই সাধারণ। বিশেষ করে, যখনই কোন সরকার ক্ষমতায় আসে বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়, তখনই অপপ্রচারের আকার-বিস্তার বৃদ্ধি পায়। বিএনপি সরকারের সময়েও এ ধরনের অপতথ্য প্রচারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এরমধ্যে অপ্রামাণিক তথ্য, ভুয়া বক্তব্য, পুরোনো কনটেন্টের পুনঃব্যবহার, এআই-নির্মিত বিভ্রান্তিকর ছবি ও ভিডিও অন্তর্ভুক্ত।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কিত নেতিবাচক প্রচারণায় কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন, আলোচনা শুরু হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে সার্কাজম পেজগুলো থেকে ভুয়া মন্তব্য বা বক্তব্য তৈরি করা হয়। এরপর, এগুলো বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও অন্য প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেয়া হয়। কখনো কখনো, যাচাই-বাছাই ছাড়াই এই ধরনের বক্তব্য গণমাধ্যমে উঠে আসে। একই সময়ে এআই-নির্মিত ছবি ও ভিডিও প্রচারণায় ব্যবহৃত হয়। পুরোনো ভিডিও, ভুয়া ফটোকার্ড, এবং প্রমাণহীন তথ্য যুক্ত করে এই অপপ্রচার চালানো হয়।
গত ছয় মাসে এসব অপতথ্য ক্যাম্পেইনের মধ্যে অন্তত ১০টি ইস্যুতে ফ্যাক্ট চেক করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্যাম্পেইনের মূল হোতাদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে রিউমর স্ক্যানার জানায়, যা বাংলাদেশের রাজনীতি ও মিডিয়া পরিবেশে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার মারাত্মক এক মাধ্যম হিসেবে দেখা দিয়েছে।

