বিনামূল্যে দরপত্রের মাধ্যমে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রি করে সরকারকে ব্যাপক ক্ষতি সাধনের অভিযোগে নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল মির্জা আব্বাস। শেষ পর্যন্ত, বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এই অভিযোগে মির্জা আব্বাসসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া সকল অভিযোগ খারিজ করে দেন।
২০০৭ সালে ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এই মামলাগুলো শুরু হয়। 당시 সরকারের আমলে সরকারি ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি দরপত্রের মাধ্যমে অপ্রতিযোগিতামূলকভাবে বিক্রির মাধ্যমে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগে মতিঝিল থানায় দুদক ২০০৭ সালের মার্চ মাসে মামলা করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাজানো দরপত্রের মাধ্যমে এবং প্রকৃত দামের চেয়ে কম দামে বাড়িগুলো বিক্রি করে আসামিরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হন, যার ক্ষতি হয় সরকারের, যার মূল্যমান প্রায় ১২৭ কোটি ৬চার লাখ ১৯ হাজার টাকা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অসৎ উদ্দেশ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি সম্পত্তি বিক্রি বন্ধ করে নিজেরা এবং প্রভাবশালী সবাই লাভবান হন। বেআইনি এই কার্যক্রমে মির্জা আব্বাসসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, যা পরে খালাসে পরিণত হয়।
অভিযোগের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, গুলশান ও ধানমণ্ডির বিভিন্ন সরকারি বাড়ি, কলেজ স্ট্রিটসহ অন্যান্য পরিত্যক্ত বাড়িগুলোর দরপত্রে কারচুপি ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজের স্বার্থ হাসিল করে তিনি। সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে এই কাজে তার অসততা ও ক্ষমতার অপব্যবহার ছিল বলে অভিযোগ।
আদালত জানিয়েছে, এই কার্যক্রমে মির্জা আব্বাসসহ অন্যান্যরা দণ্ডবিধির ৪০৯, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। তবে বিজ্ঞ আদালত সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক দণ্ডাদেশ দেননি। এই রায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে, কারণ এটি দুর্নীতির মামলায় তার নিষ্পত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

