রাজধানী ঢাকার আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে গভীর রাতে দুই যুবকের সঙ্গে মোটরসাইকেলে অচেতন অবস্থায় বসে থাকা তরুণীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। এরপর তিনি থানায় এসে পুরো ঘটনাটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তরুণীর দাবি, পারিবারিক স্ট্রেসের কারণে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে এক বারে যান, সেখানে মদপান করেন। এর ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তার এক চাচা তাকে সেখানে থেকে বাড়িতে নিয়ে যান।
শনিবার বিকেল সময় তিনি টঙ্গী পশ্চিম থানায় উপস্থিত হয়ে সেই রাতের ঘটনাদের বিস্তারিত জানান। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তরুণী বলেন, পারিবারিক চাপের কারণে আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে জসীম উদ্দিনের একটি বারে গিয়ে মদ্যপান করি, আর এটাই আমার অসুস্থতার কারণ। আমি নিজে mদ খেয়েছি, কারো জোর করা বা বাধ্য করা नहीं। এরপর আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার ফোনে চাচা যখন যোগাযোগ করেন, তখন আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি, এরপরই আমার জ্ঞান ফেরে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে তরুণী জানিয়েছেন, সেটি তার সাবেক স্বামী ছড়িয়েছে যাতে তিনি মারা গেছেন বলে ভুল বার্তা ছড়ায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমি জীবিত আছি এবং এই জন্য আমি থানায় এসেছি, আপনাদের জানাতে চাই—আমি মরিনি।
টঙ্গী পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজহার ইসলাম বলেন, ওই তরুণী শনিবার থানায় এসে বলেছে, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে রাগের পরিস্থিতিতে সে বারে গিয়েছিল। সেখানে মদ্যপান করে অচেতন হয়ে পড়ে, পরে তাকে বাড়িতে না নিয়ে এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সম্প্রতি তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল, তবে এই ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করতে এবং পুরো পরিস্থিতি বোঝার জন্য তিনি থানায় এসেছেন।
প্রায় বুধবার রাত ৩:১৫ থেকে ৩:২০ মিনিটের মধ্যে আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে একটি মোটরসাইকেলে দুই যুবকের মাঝের বসে থাকা তরুণীকে দেখা যায়, যে তখন অচেতন বা খুবই নিস্তেজ বলে মনে হচ্ছিল। ওই ছবি ও ভিডিওটি একজন ব্যক্তি ফেসবুকে শেয়ার করে দেন, যা ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি করে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (উত্তর) বিভাগের উপ-কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার দুপুরের পর তরুণী থানায় এসে জানান, পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। তারপর তিনি বারে গিয়ে মদ্যপান করেন। মদ্যপ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর, তিনি বলে যান, মোটরসাইকেলে থাকা দুই যুবকের সঙ্গে তার বাড়ি যান।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জানা গেছে, পারিবারিক সমস্যার কারণে মানসিক চাপের মধ্যে তিনি ছিলেন। পরে তিনি মদ্যপান করে সেই দুজন যুবকের সঙ্গে যান। আমরা মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তিকে খুঁজছি, কারণ তারা ভয়ে সামনে আসেনি। তাদেরও জিজ্ঞেসবাদ করব।’ এই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অংশগ্রহণকারীদের শনাক্তের জন্য পুলিশের কাছে তদন্ত চলমান।
তিনি আশ্বাস দেন, তরুণীকে তার ভাইবোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সত্য ঘটনা উদঘাটনের জন্য তারা تلاش চালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশের তথ্য মতে, ভাইরাল ভিডিও ও ছবির সূত্র ধরে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও মালিকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই আরোহীর পরিচয় জানা গেছে এবং তাদের বক্তব্য নেওয়ার কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো ঘটনাটি বোঝা যাবে এবং সত্যটা উদ্ঘাটিত হবে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা তদন্ত করেছি, তরুণী স্বীকার করেছে যে পারিবারিক টেনশন ও মানসিক চাপের কারণে সে মদ্যপান করেছিল। আর কেউ তাকে বাধ্য করে না। মদ্যপানের পর অচেতন হয়ে গেলে তার পরিচিত ব্যক্তি ফোনে খবর দিলে তারা এসে তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। সেদিনের ঠিক ঘটনা জানা ও সত্যতা নিশ্চিত করতে ওই মোটরসাইকেলের দুজনকে খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

