সাতক্ষীরা সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশি নারী ও শিশুসহ ১৫ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায়, যখন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে এই পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিজিবি তাদেরকে সদর থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এই আটকদের মধ্যে বেশিরভাগই অবৈধভাবে ভারতের হাকিমপুর ক্যাম্পে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন, যা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটে। এরপর, বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ফেরত আসাদের মধ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম কৈখালী গ্রামের মোঃ সেকেন্দার হোসেন (৩৩), নকিপুর গ্রামের কালাচাঁদ গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুলাহ গাজী (৩৮), রাকুরঝোরার ঝর্ণা খাতুন (৩৮), কালিঞ্চি গোলাখালী এলাকার মোমিকাইল মোলার স্ত্রী মোছাঃ নাজমা বিবি (৩৩), তার মেয়ে মাহেরা আক্তার (৬), ছেলে নাজমুল হাসান নাইম (১৬), মেয়ে মিনার (১৩), নওয়াবেঁকীর পূর্ব বিড়ালক্ষীর আবিয়ার রহমান শেখের মেয়ে মোছাঃ মাফুজা খাতুন (৩৪), তার মেয়েরা তানিয়া সুলতানা (১০), মাফুজা রহমান (২), খুলনার বাটিয়াঘাটা এলাকার মৃত জিয়ারুল ইসলামের স্ত্রী মোর্জিনা বেগম (৪৪), তার মেয়েরা হাসিনা খাতুন (১০), এবং পিরোজপুরের খানাকুণ্ডিয়ারী গ্রামের রুহুল আমিন (৪০), তার স্ত্রী শেফালী বেগম (৩৫) এবং মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (৭)।
বিজিবির সূত্র জানায়, সোমবার রাতে হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারত প্রবেশের দায়ে এই ১৫ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। এরপর, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিএসএফের আমুদিয়া কোম্পানি কমান্ডার ও বাংলাদেশের বিজিবি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে তাদের ফেরত দেওয়া হয়। পরে রাতের দিকে, বিজিবির একটি টহল দল তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
অতিরিক্ত বিবরণে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগই ভারত থেকে মজুরি/jobs জন্য প্রবেশ করেছিল এবং পরিস্থিতির পরিবর্তনে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একজন বলেছিলেন, প্রায় ১৬ মাস আগে তিনি অবৈধভাবে ভারতের সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন ও কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতেন। সাম্প্রতিক ভারতের চলমান ধরা-ধামার কারণে তারা দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।
সাতক্ষীরার সদর থানার ওসি শামীমুল হক নিশ্চিত করে বললেন, আটকদের বৃহস্পতিবার রাতে হস্তান্তর করা হয়। প্রথমে, ১৪ জনকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, আর একজনের পরিবারের লোক এলে শুক্রবার তারাও স্বজনের কাছে পৌঁছে দেবেন।