দেশের স্বার্থে বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অতীতে যেমন একসঙ্গে কাজ করেছে, ভবিষ্যতেও করব বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ ও সমবেদনা জানানোর সময় তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে জামায়াতের আমির বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। পরে বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে entering করছে। সামনে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার, আর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন — এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে চাই আমরা। আশা করছি, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হবে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা সবাই একমত, দেশের স্বার্থে অতীতে যেমন একসঙ্গে কাজ করেছি, সামনের দিনেও করব। তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দও একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর পাশাপাশি তাঁর সংগ্রামী ও আপসহীন জীবন সংগ্রাম ছিল অনন্য। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় তিনি জীবনদান করেছেন। নিজের বিরুদ্ধে রাজনীতি অপপ্রয়োগের বিভ্রান্তির মাঝেও তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। তার শেষ জীবন অক্লান্ত সংগ্রামেরই প্রমাণ।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সময় সরকারের অবহেলা ও অবজ্ঞার সমালোচনা করে ডা. শফিকুর বলেন, গুরুতর অসুস্থ থাকাকালে বারবার বিদেশে চিকিৎসার জন্য অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও সরকার তা উপেক্ষা করে উপহাস করেছিল। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি বিদেশে চিকিৎসা নেন, কিন্তু তখন তার পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ব্রিটেন থেকে ফেরার পর তার স্বাস্থ্যের অবনতি দেখে দেশেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন, জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন।
তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চমৎকার বিদায় ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ইতিহাস রয়ে গেছে। তার বিদায় অনুষ্ঠানে মানুষের চোখে জল ও আবেগ, যা তার রাজনৈতিক জীবনের জন্য বিশাল প্রাপ্তি। জাতির জন্য তার অবদান আজও স্মরণীয় এবং তার মাধ্যমে আমরা অনুপ্রেরণা পাই। আমরাও যদি দেশের জন্য কিছু করতে পারি, একদিন হয়তো আমাদেরকেও এভাবেই বিদায় জানানো হবে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও জাতীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের জন্য তিনি বলেন, পার্থক্য থাকলেও সবাই একত্র হয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু করার লক্ষ্য রাখতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া যে ঐক্য ভিত্তি স্থাপন করেছেন, সেই ভিত্তিতেই আমরা দায়িত্ব পালন করব। নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আগে আবারও বসে খোলামেলা আলোচনা করে দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেব।
শেষে তিনি বিএনপি নেতাদের, তারেক রহমান ও পরিবারের সদস্যদের, এবং জিয়াদের চিকিৎসায় নিযুক্ত চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বলে জানান।






















