নতুন বছরের প্রথম দিনেই দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও কমেছে। বিশেষ করে সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম কমেছে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা। ফলে, এখন থেকে একটি ভরি সোনার নতুন দাম হবে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা।
এই দাম নির্ধারণের জন্য স্থানীয় বাজারে নতুন দর কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, শুক্রবার, ২ জানুয়ারি থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই মূল্যসমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহিনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
নতুন হিসাব অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন প্রতিভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের মানের জন্য মূল্য ধরা হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য প্রতিভরি হলো ১ লাখ ৫১ হাজার ৮০৭ টাকা।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সোনার বিক্রির মূল্যে অবশ্যই সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে, গহনা ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।
অন্যদিকে, এর আগে ২০২২ সালের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর, বাজুস দেশে সোনার দাম সমন্বয় করে ভরে ছিল। সেদিন, অবিশ্বাস্যভাবে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়—আরো ২৭৪১ টাকা কমানো হয়েছিল।
সেবার অন্যান্য মানের জন্য দাম ছিল ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা। এই দামগুলো কার্যকর হয়েছিল ১ জানুয়ারি থেকেই।
বাজুসের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়, আর ২৯ বার দাম কমানো হয়েছে।
এছাড়া, সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও কমন দেখা গেছে। ভরিতে ৫২৫ টাকা কমিয়ে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। অন্যান্য মানের রুপার দাম যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ও সনাতন পদ্ধতির জন্য ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
এটি দেশের বাজারে প্রথম রুপার দাম সমন্বয়। গত বছর, দেশের বাজারে রুপার দাম ১৩ বার পরিবর্তিত হয়েছিল, যেখানে বাড়ানো হয় ১০ বার ও কমানো হয় ছিল মাত্র ৩ বার।






















